মুখ খুলছে না ৩ চীনা ও চাকমা নারী, ডিভাইস ধরে চলছে তদন্ত
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
অনলাইনে প্রতারণা ও জুয়া চক্রের ‘হোতা’ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, চক্রটি মাসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করে আসছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার তিন চীনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোনোভাবেই কোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করেনি।
তবে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে, শিগগিরই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
গত শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই তিন চিনা এবং এক বাংলাদেশি চাকমা নারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২) ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়।
একই সঙ্গে ওই বাসা থেকে ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হলেও, চীনা একজন অসুস্থ থাকায় তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা যায়নি। রোববার তাদের জেলে পাঠানো হয় বলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, “চীনাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি, তারা কোনোভাবেই মুখ খুলছে না। তবে আগামী সপ্তাহে তাদের রিমান্ডের শুনানি হবে, রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার ডিভাইসগুলো ধরে কাজ করছি, অনেক তথ্য পেয়েছি। আশা করি আজ-কালের মধ্যে আরো একটা অপারেশন করতে পারব।”
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ঝর্না নামের চাকমা ওই নারী বসুন্ধরার ওই ছয়তলা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে চীনা নাগরিকদের ভাড়া দেন। চীনা নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন।
গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “সেখানে চায়নিজরা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের মতো থাকতেন।”
চক্রটির প্রতারণার ধরণ নিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় মোবাইলে মেসেজ আসে যেখানে বলা হয়, অফার পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের জন্য এখানে ক্লিক করুন। ক্লিক করলেই ওখানে এ অফারগুলোর জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে হত।”
পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য তারা প্রায় ৬ হাজার সিম ব্যবহার করছিল। সেসব সিমসহ ১০-১২ হাজার সিমের স্লট উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি বলছে, আইনি নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইলের সঙ্গে একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম চালাতে পারত।
ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করতে পারত না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “তাদের লেনদেনের যেটা আমরা দেখলাম, আগামী এক মাসে কিছু না হলেও হয়ত বাংলাদেশ থেকে ২০০-২৫০ কোটি টাকা পাচার হওয়া থেকে বেঁচে গেলাম। আমরা ওখানে গিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক অবজার্ভ করে দেখলাম, যে পরিমাণ টাকা ট্রান্সফার হচ্ছে, তাতে হয়ত এক মাসে একটা মাত্র গেটওয়ে দিয়ে ওরা ২০০-২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পার করে নিয়ে যাচ্ছে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।