বাঘাইছড়িতে এসএসসিতে চরম বিপর্যয়, পাসের হার ২৪.৪৮ শতাংশ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনোটি থেকেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। ৯১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২২৫ জন। ফলে উপজেলায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে বিটি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। রুপালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬২ জনের মধ্যে ২৬ জন পাস করেছে, পাসের হার ৪১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মাহিল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে, পাসের হার ৪০ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এ ছাড়া উলুছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জনের মধ্যে ২২ জন, তুলাবান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ১৪ জন, দক্ষিণ রুপকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭ জনের মধ্যে ৯ জন এবং শিজক মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৬ জনের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
কাচালং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন। বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ৯ জন, খেদারমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৫ জনের মধ্যে ২২ জন, সারোয়াতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে ৮ জন এবং বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২৯ জনের মধ্যে ২৩ জন পাস করেছে।
ফলাফলের আরও নিচের দিকে রয়েছে আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় ও উগলছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়। আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। উগলছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬ দশমিক ১২ শতাংশ।
সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে শিজক দোসর বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
বাঘাইছড়ির এবারের ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—উপজেলার কোনো বিদ্যালয় থেকেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। পাশাপাশি অধিকাংশ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে হওয়ায় শিক্ষার সামগ্রিক মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষাবিদরা এমন ফলাফলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাঘাইছড়ির দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। কোথাও কোথাও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহ ও অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবও ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু পরীক্ষার সময় বাড়তি প্রস্তুতি বা ফলাফল প্রকাশের পর কারণ অনুসন্ধান করলেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোথায় শিক্ষক সংকট, কোথায় পাঠদানের ঘাটতি এবং কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে—তা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষক, নিয়মিত পাঠদান, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং কার্যকর একাডেমিক তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন ফলাফল অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাঘাইছড়ির শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।