আটক আইসিটি ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায়, অপপ্রচার সেনাবাহিনীর নামে

আটক আইসিটি ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায়, অপপ্রচার সেনাবাহিনীর নামে

রাঙামাটিতে আইসিটি মামলায় ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় রাঙামাটিতে ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতা সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের ফটকের সামনে থেকে সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমার দায়ের করা আইসিটি ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সৈকত রঞ্জনকে আটক করা হয়েছে। একই মামলায় রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

সৈকত রঞ্জনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পোস্ট ও দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে তাকে ‘নিখোঁজ’ এবং সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে ওইসব দাবির বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটের দিকে কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি রাঙামাটি জেলা পরিষদের ফটকের সামনে সৈকত রঞ্জনের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় একটি সাদা মাইক্রোবাসে ওঠেন। এরপর সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরাও গাড়িতে ওঠেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই গাড়িতে করেই তাকে চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হয়।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আটক করেছেন।

এদিকে, আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের মাধ্যমে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও একটি মহল ঘটনাটিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষ করে আটকের কিছুক্ষণের মধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফুটেজটি প্রথম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কীভাবে এত দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল এবং কোনো নির্দিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পেজে কীভাবে পৌঁছাল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

সৈকত রঞ্জন চৌধুরী রাঙামাটি জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, মামলার বাদী সায়রা চন্দ্রা চাকমা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা আলী আকবর সুমনকে আটক করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে আটকের ক্ষেত্রে মামলার ধারা, তদন্ত এবং আদালতের প্রক্রিয়াই মূল বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অসমর্থিত দাবির ভিত্তিতে কোনো বাহিনীকে দায়ী করা হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সৈকত রঞ্জনের আটকের ঘটনায় প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্ট করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজের উৎস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর দ্রুত বিস্তার এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ছড়ানো বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যক্রমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্য কোনো বাহিনীর নামে প্রচার করা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *