রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিক সমান: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিক সমান: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিক সমান: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের অনুভূতি তৈরি হয় এমন শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিক সমান। পাহাড় কিংবা সমতল যেখানেই বসবাস করুক না কেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে শব্দের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বা অন্য কোনোভাবে চিহ্নিত করা হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইনডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশে রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে, এসব জনগোষ্ঠীর পরিচয় নির্ধারণে ব্যবহৃত শব্দ ও পরিভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামের মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ ধরনের নাম ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ক্ষুদ্র শব্দটির ব্যবহার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু শব্দটি নিয়ে বিতর্ক না করে ওই জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্র কী করছে, সেটিও দেখতে হবে। তবে, কোনো শব্দ ব্যবহারের কারণে যদি কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের ছোট বা অবমূল্যায়িত মনে করার প্রবণতা তৈরি হয় তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, একটি দেশে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষ থাকতে পারে। সব জাতি ও গোষ্ঠী মিলে যে একক সত্তা তৈরি হয় সেটিই জাতীয় সত্তা। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

রাষ্ট্র সবার মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষ পাহাড়ে, সমতলে বা দেশের যেখানেই বসবাস করুক, রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। সংবিধানে সমতার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করতে আরও কাজ করতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরী মনি বলেন, দেশের জন্য আদিবাসী বা জাতিগত পরিচয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমস্যাটি এখন ক্যান্সারের মতো রূপ নিয়েছে। সময়মতো এর সমাধান না করলে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ৫০টি আদিবাসী, উপজাতি বা নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হলেও ১৭-১৮টি গোষ্ঠীর তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার ৮৯৫ জন। জনসংখ্যার অনুপাতে এ সংখ্যা কম হলেও দেশের ভূমি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিভাজন চাই না। আমরা চাই দেশের সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুক। পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালিদের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের সম্পত্তিতে দেশের সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *