দিল্লি থেকে বাংলাদেশে নিয়ে চাকমাদের ষড়যন্ত্রের নিন্দা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের

দিল্লি থেকে বাংলাদেশে নিয়ে চাকমাদের ষড়যন্ত্রের নিন্দা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের

দিল্লি থেকে বাংলাদেশে নিয়ে চাকমাদের ষড়যন্ত্রের নিন্দা সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কতিপয় চাকমা কমিউনিটি কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক এ ধরনের দাবিকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিদেশের মাটিতে বসে কোনো ধরনের দাবি উত্থাপন করা উদ্বেগজনক।

থোয়াই চিং মং চাক বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, জাতিগত পরিচয় কিংবা আঞ্চলিক দাবি থাকতেই পারে। তবে বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের আহ্বান কিংবা দেশের জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার মতো কোনো পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করেন না।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ। এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, অধিকার ও শান্তির বিষয়ে গণতান্ত্রিকভাবে দাবি উত্থাপন ও আন্দোলনের সুযোগ রয়েছে। তবে বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ বা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের মতো চাপ সৃষ্টির রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা বন্ধ করার আহ্বান কোনো জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না। এটি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে থোয়াই চিং মং চাক বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা কিংবা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার আহ্বান জানালে বিষয়টি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়টিও যথাযথভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে দেশের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংলাপ ও আলোচনার পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশের সংবিধান, আইন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে বিভাজন ও বিদেশি হস্তক্ষেপের রাজনীতি পরিহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব, শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *