টেকনাফে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিতে তলিয়ে গেছে মসজিদ-মাদ্রাসা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বসতঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে বৃষ্টি কমে আসায় অনেক এলাকায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের খাল ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ সংকুচিত ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত খাল পরিষ্কার, খনন এবং পানি চলাচলের পথগুলো সংস্কার করা হলে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ১৮ আগস্ট রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে কিছু এলাকায় পানি নামলেও এখনো অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা রয়েছে।

জানা গেছে, হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রংগীখালী, ওয়াব্রাং, পূর্ব ফুলেল ডেইল, ছৈয়দ নুর পাড়া, জালিয়া পাড়া ও গোদামপাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। সাবরাং ইউনিয়নের ছান্দলী পাড়া, আলীর ডেইল, নয়াপাড়া, পূর্ব জিনাপাড়া, লাপার গুনার পূর্ব পাশ ও মগপাড়াতেও পানি জমেছে।
এ ছাড়া টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী ও জাহালিয়া পাড়া এবং টেকনাফ পৌরসভার জালিয়া পাড়া, কলেজ পাড়া ও ডেইল পাড়ার নিচু এলাকাগুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাজপুরা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ ও হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা। বৃষ্টির পানি ঢুকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়, বিছানাপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদ ও মাদ্রাসা এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলেও ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা ছোটন বলেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে যায়। বৃষ্টি কমার পর পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পানি চলাচলের রাস্তাগুলো আগের চেয়ে প্রশস্ত করা এবং খালগুলো সংস্কার করা হলে নিচু এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবেন।

সাবরাং চান্দলীপাড়ার বাসিন্দা জুবায়ের আজিজ বলেন, রাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গ্রামের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি চলাচলের কিছু পথ স্থানীয় কয়েকজন বন্ধ করে রেখেছেন। এসব পথ স্বাভাবিক করে দেওয়া হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির উত্তর শাখার সদস্য সচিব নুরুল আজিম সোহেল জাসান বলেন, সুইচগেট বন্ধ থাকায় এবং কিছু জায়গায় মাছের ঘের থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। খাল খননের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফয়েজ আহমেদ বলেন, রাত থেকে টানা অতিবৃষ্টির কারণে তাঁর এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশনের পথগুলো স্বাভাবিক না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। তবে বৃষ্টি কমে গেলে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে পানি চলাচলের পথগুলো দখলমুক্ত ও প্রশস্ত করার পাশাপাশি খালগুলো দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে মাছের ঘের বা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজারে মোট ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, রাত থেকে টেকনাফে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি উঠেছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পানি আবার নেমে যাচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।