মোবাইল রিপেয়ারিং থেকে কম্পিউটার শিক্ষা, লংগদুতে কারিগরি শিক্ষায় সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বেকার যুবক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর চলমান জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোন সদর এলাকায় বিভিন্ন মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত কর্মসূচিতে মোবাইল রিপেয়ারিং, প্রাথমিক চিকিৎসা, কম্পিউটার এবং মেকানিক্যাল ও রিপেয়ার—এই চারটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্থানীয় জনগণের বাস্তব প্রয়োজন ও বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়গুলো নির্বাচন করা হয়েছে। মোবাইল রিপেয়ারিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হবে। অন্যদিকে মেকানিক্যাল ও রিপেয়ার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অটোমোবাইল ও বিভিন্ন যান্ত্রিক কাজে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে যেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লংগদু জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন অধিনায়ক মেজর মো. শাহীনূর আল সাকিব বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসনে সময়োপযোগী কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতা ও মনোযোগের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সফল অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই একজন তরুণ নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা গেলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও প্রশিক্ষণার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
লংগদু জোনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। ফলে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ফি ছাড়াই নিজ এলাকার কাছাকাছি এমন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কেউ চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসা বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। লংগদুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
লংগদু জোন সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া এসব উদ্যোগ পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।