মহালছড়িতে কর্মক্ষমতা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধিতে ‘রিডিং গ্লাস’ প্রকল্পের উদ্বোধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা দূর করে মানুষের কর্মক্ষমতা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ‘রিডিং গ্লাস ফর ইমপ্রুভমেন্ট লাইভলিহুড (RGIL)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় গ্রীন হিল এনজিও সংস্থার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। VisionSpring Bangladesh-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এবং United Purpose ও গ্রীন হিলের যৌথ বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এডিন চাকমা, সহকারী সার্জন মো. শরিফ এবং মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন।
গ্রীন হিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর যতন কুমারের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন United Purpose-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার রিপন আলী সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর বিটু দত্ত।
সভায় বক্তারা বলেন, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নয়, তাদের কর্মক্ষমতা ও আয়-রোজগারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসেবা ও রিডিং গ্লাস সহজলভ্য না হওয়ায় অনেকেই দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

এ অবস্থায় RGIL প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, উপযুক্ত রিডিং গ্লাস সরবরাহ এবং দৃষ্টিশক্তি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মদক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, উপকারভোগী নির্বাচন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ একটি রিডিং গ্লাসের অভাবে দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা থাকা ব্যক্তিদের পড়াশোনা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগরি কাজসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমস্যায় পড়তে হয়। সঠিকভাবে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী রিডিং গ্লাস সরবরাহ করা গেলে এসব মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবিকায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, মহালছড়ির প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।