বান্দরবানে জলবায়ু সহনশীলতা পরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদাকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বান্দরবানে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সহনশীলতা পরিকল্পনা (Local Resilience Plan—LRP) নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিযোজনের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (CORLIA)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ুজনিত ঝুঁকি, জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব, অগ্রাধিকারভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম, প্রয়োজনীয়তা ও বিদ্যমান ঘাটতিসমূহ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব বিষয় স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা দিন দিন নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস, পানির সংকটসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঝুঁকির প্রভাব স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।
এর পাশাপাশি কৃষি, নিরাপদ পানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এসব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
তাঁরা বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। তাই কোন এলাকায় কী ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি রয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকার কী—এসব বিষয় চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় স্থানীয় সহনশীলতা পরিকল্পনা বা LRP-এর অগ্রাধিকারগুলো সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ের মানুষকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনি।
এ সময় নারী নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীল কমিটির প্রতিনিধি, পাড়া পর্যায়ের ইয়ুথ গ্রুপের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ ছাড়া ইআরআরডি-সিএইচটি প্রকল্পের CORLIA কম্পোনেন্টের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও জলবায়ু ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব বিষয় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ঝুঁকি চিহ্নিত করে জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সহনশীলতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে বান্দরবানের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষি, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আরও সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে উঠবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।