কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রভাবে বেড়েছে ফলের দাম, কমলা-মাল্টার দাম আকাশচুম্বী

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রভাবে বেড়েছে ফলের দাম, কমলা-মাল্টার দাম আকাশচুম্বী

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রভাবে বেড়েছে ফলের দাম, কমলা-মাল্টার দাম আকাশচুম্বী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে কক্সবাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম। বিশেষ করে কমলা, মাল্টা ও ডালিমের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমলার কেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। হাসপাতাল এলাকায় ডাবের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফলমূল কেনার প্রবণতা বাড়ায় বাজারে কিছু ফলের চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে সরবরাহ ও ক্রয়মূল্যের বাড়তি চাপ থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখো গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফলমূল ও তরল খাবারের চাহিদা বাড়লেও বাজারে এসব ফলের দাম এখন বেশ চড়া। সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি কেজি আপেল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ও মাল্টা ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, ডালিম বা বেদানা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পেয়ারা প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাকা পেঁপে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, তরমুজ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কলা প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি পিস ডাবের দাম ১৫০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ফলমূল ও ডাবের পানি কিনতে স্বজনদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

শহরের শিমুল ফুডস শপের মালিক শিমুল পাল বলেন, গত এক সপ্তাহেই কমলার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি কমলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন একই কমলা ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রভাবে বেড়েছে ফলের দাম, কমলা-মাল্টার দাম আকাশচুম্বী

বদরশাহ ফল বিতানের মালিক সিরাজুল ইসলাম আজাদ বলেন, গত এক সপ্তাহে ডালিমের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে পেয়ারার দামও কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে। বাজারে ফলের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ক্রয়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিহাব ফল বিতানের ম্যানেজার বলেন, হাসপাতালে রোগীদের জন্য স্বজনেরা নিয়মিত ফলমূল কিনে নিয়ে যান। সাম্প্রতিক সময়ে ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদেরও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে কমলা ও মাল্টার দাম বেশি বেড়েছে। এসব ফল বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে বলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়কের ফলের বাজারে ডাবের দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গ্রামাঞ্চল থেকে ডাব কিনে আনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।

হাসপাতাল সড়কের ডাব বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রাম থেকে বেশি দামে ডাব কিনে আনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে সীমিত লাভ রেখেই ডাব বিক্রি করছেন তারা। বর্তমানে মাঝারি আকারের একটি ডাব ১৭০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফলমূল ও ডাবের চাহিদা থাকায় হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় এসব পণ্যের বিক্রি তুলনামূলক বেশি। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকেই আগের তুলনায় হিসাব করে ফল কিনতে হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তৌসিফ উদ্দিন মিজবাহ বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডাবের পানি, যেকোনো ধরনের তাজা ফলের রস, লেবুর শরবত ও কমলার রসসহ বিভিন্ন তরল খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *