ঈদগাঁওয়ে প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনওর আপত্তিতে আটকে বিল

ঈদগাঁওয়ে প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনওর আপত্তিতে আটকে বিল

ঈদগাঁওয়ে প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনওর আপত্তিতে আটকে বিল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই বিল ছাড়ের জন্য কাগজপত্র উপস্থাপনের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিলের ফাইল আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম ভোমরিয়াঘোনা জামে মসজিদসংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ভবন সংস্কারের জন্য উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পস্থলে গিয়ে একটি পুরোনো সেমিপাকা ঘর টিনের ছাউনি খোলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ফলে প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের পালপাড়া সার্বজনীন দুর্গা ও কালী মন্দিরের উন্নয়নকাজের জন্য ৯ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রামুর মঈন কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি উভয় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে বিল ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রকল্পের বাস্তব কাজ এবং দাখিল করা কাগজপত্রের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও বিলের ফাইল আটকে দেন। পরে ফাইলে বিভিন্ন নোট দিয়ে তা পুনরায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রকল্পের দায়িত্বশীল জাহানারা ইসলাম গার্লস স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রকল্পের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। ফাইল আটকে দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পালপাড়া সার্বজনীন দুর্গা ও কালী মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বাবু ভেক্কা পাল বলেন, মন্দিরের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো বিল পায়নি।

প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অনিয়মের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈন কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্সের স্বত্বাধিকারী মঈন উদ্দিন সাহেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার জবাবে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে প্রকল্প দুটির কাজ বাস্তবায়নের জন্য তিনি সাব-ঠিকাদারকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

সাব-ঠিকাদার মামুন বলেন, তারা প্রকল্পের এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করেছেন। ইউএনও কার্যালয়ে বিলের ফাইল আটকে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি না বুঝে এমন হয়েছে এবং ফাইল পুনরায় পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত, ঈদগাঁও উপজেলা) আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, প্রকল্পের কাজ এস্টিমেট অনুযায়ী হয়েছে। তবে ইউএনও কার্যালয়ে বিলের ফাইল আটকে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বিলের ফাইল আটকে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রকল্পের কাজের সঙ্গে কাগজপত্রের অসঙ্গতি থাকায় তিনি ফাইলে বিভিন্ন নোট দিয়েছেন এবং তা পুনরায় এলজিইডি কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে বিল ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়ম করে আসছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান, বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং বিল পরিশোধের আগে বাস্তব কাজের সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে কোনো প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকলে বা কাজের পরিমাণের সঙ্গে বিলের কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও পালপাড়া মন্দিরের উন্নয়ন প্রকল্প—দুটিরই বরাদ্দ, প্রাক্কলন, বাস্তবায়ন, কাজের পরিমাণ এবং বিলসংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা হোক। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *