আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া মিনা চাকমার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন

আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া মিনা চাকমার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন

আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া মিনা চাকমার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী মিনা চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৩নং ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের করল্যাছড়ি মুখ এলাকায় মিনা চাকমার বাড়িতে মহালছড়ি জোনের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়। এ সময় মিনা চাকমার পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয় এবং মিনার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে পরবর্তীতে তার পরিবারকে ২ টি ছাগল দেওয়ার কথা জানিয়েছে জোন কর্তৃপক্ষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি জোনের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন তাহমিদ সামিন, ক্যায়াংঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রুপেন্ধু দেওয়ান, ইউপি সদস্য হেমন্ত বিকাশ চাকমা, স্থানীয় কার্বারী নেহার বিন্দু তালুকদার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অসহায় পরিবারের মেয়ে মিনা চাকমা(১৩), ডাক-নাম ঝিনা, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ৩নং ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের করল্যাছড়ি মুখ এলাকার বাসিন্দা। সে মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া মিনা চাকমার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন
পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না। বাবা-মায়ের এমন কথা শুনে অভিমান ও রাগ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাড়ি থেকে চলে যায় মিনা। বিষয়টি জানার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটির খোঁজখবর নেয় মহালছড়ি জোন। পরে মিনা চাকমার ভবিষ্যৎ ও পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যয় বহনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় মহালছড়ি জোন।

মিনা চাকমা বলেন, আমি পড়াশোনা করতে চাই। আমার স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু আমাদের পরিবারের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। বাবা-মায়ের কথা শুনে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। মহালছড়ি জোন আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছে। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে আমার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করব।

বাবা নয়ন কিশর চাকমা বলেন, আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই কারণে হয়তো মেয়েটি অভিমান করেছে। মহালছড়ি জোন আমাদের মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। জোনের এই উদ্যোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আর্থিক অনটনে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া মিনা চাকমার দায়িত্ব নিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন

ইউপি চেয়ারম্যান, রুপেন্ধু দেওয়ান বলেন, মিনা চাকমা একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে একটি শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। মহালছড়ি জোন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এলাকাবাসী জানান, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অভিমানে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন আর কোনো পরিবারের ক্ষেত্রে তৈরি না হয়। তাদের মতে, মহালছড়ি জোনের এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং একজন শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা।

মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *