সেন্টমার্টিনে খতনার পর শিশুদের সংক্রমণ: ১০ শিশুর ড্রেসিং, চিকিৎসা ১৮ জনের

সেন্টমার্টিনে খতনার পর শিশুদের সংক্রমণ: ১০ শিশুর ড্রেসিং, চিকিৎসা ১৮ জনের

সেন্টমার্টিনে খতনার পর শিশুদের সংক্রমণ: ১০ শিশুর ড্রেসিং, চিকিৎসা ১৮ জনের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা কর্মসূচির পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে গিয়ে খতনা করা শিশুদের পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়েছে। চিকিৎসা কার্যক্রমে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে এবং ১৮ শিশুকে সংক্রমণের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসা নেওয়া কোনো শিশুকেই সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাইরে রেফার করা হয়নি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম শাহপরীরদ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে দলটি সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনা করা শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেয়।

মেডিকেল টিমের তথ্যমতে, খতনা করা ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ১৮ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা ভালো আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়েছে বলে তারা জানান। পরে শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

সেন্টমার্টিনে খতনার পর শিশুদের সংক্রমণ: ১০ শিশুর ড্রেসিং, চিকিৎসা ১৮ জনের

এর আগে গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও শিশুদের সুন্নাতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শায়খ মুফতী মাহবূবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সেখানে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে মেডিকেল টিমটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে যায় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে খতনা করার কয়েকদিন পর কিছু শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়।

সেন্টমার্টিনে পাঠানো মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, খতনা করা শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের ইনফেকশনের খবর পাওয়ার পর তারা সেন্টমার্টিনে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শিশুর নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে এবং ১৮ শিশুকে সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং খতনা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের অসচেতনতার কারণে এসব সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে সংক্রমণের কারণ চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা সম্ভব বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডা. নওশাদ আলম কানন আরও বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া জরুরি। খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

সেন্টমার্টিনে খতনার পর শিশুদের সংক্রমণ: ১০ শিশুর ড্রেসিং, চিকিৎসা ১৮ জনের

তিনি জানান, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের অন্য কোথাও পাঠানোর প্রয়োজন নেই। সেন্টমার্টিনেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। চিকিৎসা নেওয়া কোনো শিশুকেই দ্বীপের বাইরে রেফার করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।

ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ১৮ শিশুর শরীরে ইনফেকশন পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে শিশুরা ভালো আছে। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমের বরাত দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, সময়মতো ড্রেসিং না করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না দেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাটি দুর্গম দ্বীপে এ ধরনের চিকিৎসা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও ফলোআপের গুরুত্ব সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের খতনার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, ক্ষতস্থানের পরিচর্যা, নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় আয়োজিত চিকিৎসা কর্মসূচিতে সেবাগ্রহীতাদের পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের জটিলতা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *