পরিবহণ মালিকদের কাছে জেএসএসের ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, থানচি রুটে বন্ধ বাস-জিপ চলাচল

পরিবহণ মালিকদের কাছে জেএসএসের ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, থানচি রুটে বন্ধ বাস-জিপ চলাচল

পরিবহণ মালিকদের কাছে জেএসএসের ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, থানচি রুটে বন্ধ বাস-জিপ চলাচল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের থানচি উপজেলাগামী সড়কে পরিবহণ মালিকদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সদস্যদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে যানবাহন ভাঙচুর ও চালকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাস ও জিপ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে এ রুটে বাস ও জিপ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেও থানচির উদ্দেশ্যে কোনো গণপরিবহণ ছেড়ে যায়নি। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে আসা যাত্রীদের বাস ও জিপস্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। গাড়ি না পেয়ে অনেককে গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাস ও জিপ মালিক সমিতির অভিযোগ, থানচিগামী পরিবহণ মালিকদের কাছে পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। দাবি অনুযায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি ভাঙচুর এবং চালকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে তাঁদের দাবি। এমন পরিস্থিতিতে চালক ও পরিবহণ মালিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, চাঁদার চাপ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে থানচি সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবহণ খাতের সঙ্গে যুক্ত মালিক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, থানচির কমলাবাগান, বাগানবাড়ি, থানচি সদর এবং ডিম পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় ভারী অস্ত্রধারী সশস্ত্র সদস্যদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে চাইছেন না।

বাস ও জিপ চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। থানচির সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগে গণপরিবহণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ অচলাবস্থায় দৈনন্দিন যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবহণ মালিক ও সংশ্লিষ্টরা চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত, চালক ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং থানচি রুটে দ্রুত গণপরিবহণ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবহণ চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *