এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো দুটি বাস

এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো দুটি বাস

এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো দুটি বাস
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম থেকে বাঁশখালী, পেকুয়া, মগনামা ও বদরখালী হয়ে মহেশখালী রুটে এসআর পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চলাচল নিয়ে আবারও বিরোধ দেখা দিয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) পেকুয়া ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পরিবহনটির দুটি এসি বাস বাঁশখালীর প্রেমবাজার ও চানপুর এলাকায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাসে থাকা পেকুয়া, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়ার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এসআর পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসি বাসে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নেতা বাস দুটি আটকে দেন। তাঁদের দাবি, এসি বাস সার্ভিস চালুর পর থেকেই বাধা ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নেতা প্রেমবাজার ও চানপুর এলাকায় বাস দুটির চলাচল আটকে দেন।

বাস দুটির একটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন পেকুয়া উপজেলা যুবদল নেতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। প্রেমবাজার এলাকায় বাসটি আটকে দেওয়া হলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে এর কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “তোমরা গাড়ি কেন আটকে দিয়েছ? যাত্রীদের হয়রানি করা যাবে না। তোমাদের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমাধান করো। কিন্তু যাত্রীদের হয়রানি করছ কেন?”

জাহাঙ্গীরের প্রতিবাদের পর প্রেমবাজারে আটকে রাখা বাসটি ছেড়ে দেওয়া হলেও চানপুর এলাকায় আটকে রাখা অন্য বাসটি তখনো আটকে রাখা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় বাঁশখালী লোকাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে সমিতির সভাপতি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বাস চলাচল বন্ধ করেননি।

এসআর পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সেকান্দর বলেন, এসি বাস সার্ভিস চালুর পর থেকেই তাঁদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নেতা প্রেমবাজার ও চানপুর এলাকায় বাস দুটি আটকে দেন। তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগেও এসআর পরিবহনের এসি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। তখনও বাধার মুখে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এসআর পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের রুট পারমিট রয়েছে। এরপরও কোন অধিকারে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাঁশখালীতে এসআর পরিবহনের একটি কাউন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ওই এলাকায় যাত্রী ওঠানামা করাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া বাঁশখালী লোকাল বাসের চেকাররা তাঁদের বাসে নিয়মিত উঠে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বাঁশখালী লোকাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজিম বলেন, “আমি কেন বাস বন্ধ করতে যাব? এখানে চারটি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে কেউ বাস চলাচল বন্ধ করে থাকতে পারে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঁশখালী লোকাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসি বাস চলাচল নিয়ে বারবার বাধার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি বাড়ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ও সমিতির সভাপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed