দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসাসেবার হাত বাড়াল দীঘিনালা জোন, বিনামূল্যে সেবা পেলেন দুই শতাধিক মানুষ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। জোনের সার্বিক সহায়তায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জোড়া ব্রিজে দুই শতাধিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দীঘিনালা জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় এবং জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) তত্ত্বাবধানে এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে আর্থিক অসচ্ছলতা ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো কিংবা ওষুধ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যাতায়াত করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এ বাস্তবতায় জোড়া ব্রিজ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের আয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমে দুই শতাধিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পান। বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় উপকৃত হন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা। শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়াই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক পরিবেশ তৈরিতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ পরিবারের চিকিৎসাব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে অনেক সময় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দীঘিনালা জোন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার একটি দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণে স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জনকল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আরও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।