ঐতিহাসিক ভুলের কারণে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর-পূর্ব ভারত- প্রদ্যোত দেববর্মা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা বলেছেন, দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু ভূখণ্ড ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া ছিল একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’। তাঁর মতে, সেই ভুলের পরিণতিতেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখনো ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার সমস্যায় ভুগছে।
প্রদ্যোত দেববর্মার দাবি, ভারত বিভাগের আগে ত্রিপুরা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্ত ছিল—এমন কিছু ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরার মহারাজা ও রাজমাতাও এসব ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে একীভূত করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।
তিনি বলেন, “সেই সময়ে ভারত সরকারের উচিত ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। মহারাজা ও রাজমাতা পরবর্তী সময়ে এসব ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে একীভূত করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার যে কারণেই হোক, পূর্ব পাকিস্তানের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেনি। সেসব ভূখণ্ড আজ ভারতের অংশ হলে তা আমাদের রাজ্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারত।”
উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাকে অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে উল্লেখ করে প্রদ্যোত দেববর্মা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটি সুযোগের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনা ভারতের হেফাজতে ছিল। ওই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হতে পারত—এমন কিছু ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল ভারতের।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালেও আরেকটি সুযোগ এসেছিল, যখন ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনা ভারতের হেফাজতে ছিল। সে সময় আমরা আলোচনা করে কিছু অর্জন করতে পারতাম। কিন্তু তখনো তা করা হয়নি। এ ধরনের সুযোগ বারবার আসে না। আমরা সেই সুযোগ হারিয়েছি। এটি একটি ঐতিহাসিক ভুল।”
তবে এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কাউকে রাজনৈতিকভাবে দায়ী করতে চান না বলে স্পষ্ট করেছেন। তাঁর যুক্তি, ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন—এমন কিছু ভূখণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট জোরালো উদ্যোগ না নেওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে।
ভূখণ্ড পুনরেকত্রীকরণের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আলোচনায় শুধু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়; ভারতের পূর্বাঞ্চলেও অতীতে অনেক কিছু ঘটেছে, যা তাঁর মতে ভুল ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা শুধু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কথা বলব কেন? আমাদের পূর্বাঞ্চলেও অনেক কিছু ঘটেছে, যা ভুল ছিল।”
প্রদ্যোত দেববর্মার দাবি, ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল—এমন কিছু ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেসব ভূখণ্ড পুনরায় একীভূত করার বিষয়েও তিনি মত দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যে দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ও ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।