নানিয়ারচর সেতুকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ’ এর নামে নামকরণ করার দাবি - Southeast Asia Journal

নানিয়ারচর সেতুকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ’ এর নামে নামকরণ করার দাবি

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সেতুটি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের নামে নামকরণ করার দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, রাঙামাটি জেলা শাখা।

মানববন্ধনে নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা সহ-সভাপতি কাজী জালোয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান, মহাসচিব আলমগীর কবির, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো. হাবীব আজম, ছাত্র নেতা শহীদুল ইসলাম ও পারভেজ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলাধীন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের রাঙামাটি সড়ক বিভাগাধীন বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু জেলা মহাসড়ককে নির্মিত নানিয়ারচর সেতুটির নাম চিত্রশিল্পী “বাবু চুনিলাল দেওয়ান সেতু” নামে নামকরণের নিমিত্তে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৩ সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। উক্ত প্রজ্ঞাপনটি দেখে পার্বত্যবাসী অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সরকারের কাছে পার্বত্য এলাকার আপামর জনতার আবেগ অনুভূতি ও মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মানের মূল্যায়ন করে উক্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। কারণ উক্ত সেতুটির পাশে ঘুমিয়ে আছেন বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। তার সম্মানে উক্ত সেতুটি “বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ সেতু” নামে নামকরণ করার জন্য পার্বত্যবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলো।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রনালয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্পত্তি শাখার সিনিয়র সহকারী সচিত মোঃ গোলামী জিলানী কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে রাঙামাটির নানিয়ারচর সেতুটির নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে নানিয়ারচর সেতুটিকে বিশিষ্ট চিত্রশিলপী ‘বাবু চুনীলাল দেওয়ান সেতু’ নামে নামকরণ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর উপজেলাধীন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের রাঙামাটি সড়ক বিভাগাধীন বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু জেলা মহাসড়ক (জেড-১৬১২)-এর ১০ কিলোমিটারে নির্মিত নানিয়ারচর সেতুটির নাম চিত্রশিল্পী “বাবু চুনিলাল দেওয়ান সেতু” নামে সরকার নামকরণ করলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর কল্যাণে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে পাহাড়ের নেটিজেনরা অনলাইনে-অফলাইনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ছাত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেতুটি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের নামে নামকরণ করার দাবিও জানিয়েছেন।

এর আগে, গত বছরের ১২ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বহুল কাঙ্খিত এই সেতুন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই স্থানীয় অধিবাসীরা সেতুটিকে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছে।

এমনকি, নানিয়ারচর উপজেলার চেঙ্গী নদীর উপর নির্মিত রাঙামাটি-নানিয়ারচর সেতুর নাম বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ’র নামকরণের দাবিতে সেতুটি উদ্বোধনের আগে ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সোমবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, রাঙামাটি জেলা শাখা।

স্থানীয়রা বলছেন, রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। এই বীবের নামে রাঙামাটিতে তেমন বড় কোন ধরনের স্থাপনার নামকরণ করা হয় নাই। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরণের এই সেতুর নাম বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেমন রক্ষা করা যাবে, তেমনই এই বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষুদ্র প্রয়াসও স্বার্থকতা পাবে।