থাইল্যান্ডে বিপুল পণ্য জব্দ, মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা

থাইল্যান্ডে বিপুল পণ্য জব্দ, মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা

থাইল্যান্ডে বিপুল পণ্য জব্দ, মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের তানিনথারি অঞ্চলের কাওথাউং শহরের বিপরীতে অবস্থিত দক্ষিণ থাইল্যান্ডের বন্দর নগরী রানং এখন সীমান্ত বাণিজ্যকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রোববার থাই কর্তৃপক্ষ একটি গুদাম থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জেনারেটর এবং ২ হাজারেরও বেশি এয়ার কন্ডিশনার জব্দ করেছে, যার মূল্য ৫০ মিলিয়ন বাহত (প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। গুদামটি একজন মিয়ানমার নাগরিকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এটিকে “নতুন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা এসব পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে পণ্যের বৈধতা প্রমাণে শুল্ক নথি উপস্থাপন করতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ট্রানজিট পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ না করলে সেগুলো থাইল্যান্ডের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।

অন্যদিকে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা এবং মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। তাদের মতে, মিন অং হ্লাইং প্রশাসনের অধীনে লাইসেন্স অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব এবং শিপিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে পণ্যগুলো নির্ধারিত সময়ের বেশি থাইল্যান্ডে গুদামজাত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

থাই আইনে বলা আছে, রানং-কাওথাউং সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট পণ্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন রানংয়ের গুদামে রাখা যাবে। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে সেগুলো কর লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে এবং জব্দ করা হয়। মিয়ানমার ব্যবসায়ীদের দাবি, সর্বশেষ ঘটনাটি লাইসেন্স অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ঘটেছে।

কাওথাউংয়ের এক সীমান্ত ব্যবসায়ী দ্য ইরাবতীকে জানান, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তার ভাষায়, “আপনার নথি থাকলে সমস্যা সমাধান করা যায়। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। আমাদের জানা মতে, পণ্য স্থায়ীভাবে জব্দ করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।”

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার জান্তা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য আমদানি লাইসেন্স আরও কঠোর করেছে, ফলে ব্যবসায়ীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শিপিং বিলম্বও বেড়েছে, কারণ আমদানি এখন বেশি সমুদ্রপথে করা হচ্ছে।

একজন ব্যবসায়ী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “লাইসেন্স বাহতে অর্থ দিয়ে রানংয়ে প্রক্রিয়া করতে হয়। পণ্য প্রস্তুত থাকলেও কাগজপত্রে দেরি হয়। গুদাম খরচ বাড়তে থাকে এবং ৩০ দিনের সীমা পেরিয়ে গেলে থাই কর্তৃপক্ষ পণ্য জব্দ করে। এ কারণে মিয়ানমার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাম বাড়ছে এবং পণ্যের সংকট তৈরি হচ্ছে।”

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় স্থলবাণিজ্য রুট মিয়াওয়াদ্দি সীমান্ত যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা রানং-কাওথাউং সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই রুটে কন্টেইনার সরাসরি ট্রাক থেকে জাহাজে স্থানান্তর করতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং জাহাজের সীমিত সক্ষমতার কারণে জট তৈরি হয়। এতে ব্যবসায়ীরা রানংয়ে অস্থায়ী গুদাম ভাড়া নিতে বাধ্য হন। কিন্তু মিয়ানমারের লাইসেন্স বিলম্ব ৩০ দিনের সীমা ছাড়িয়ে গেলে থাই কাস্টমস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্যকে অবৈধ ঘোষণা করে জব্দ করে।

যদিও নথিপত্র দেখিয়ে জরিমানা দিয়ে পণ্য ফেরত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে এতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বাড়ে। স্থানীয়দের মতে, সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

রানংয়ের এক বাসিন্দা বলেন, “প্রায় ৮০ শতাংশ গুদামেই এই সমস্যা হয়। মূল কারণ লাইসেন্স অনুমোদনে দেরি এবং শিপিং সীমাবদ্ধতা। ৩০ দিন পার হলেই থাই কর্তৃপক্ষ আবার শুল্ক দাবি করে। এতে মিয়ানমার ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।”

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে জান্তা সরকার আমদানি লাইসেন্স কঠোর করেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বিলম্ব ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *