পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বাবুছড়া ইউনিয়নের বাঙাল্যা করুণা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং মৌলিক সেবার পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না, তাই সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির সংকট, দুর্গম সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগের অভাবের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

রিজিয়ন কমান্ডার মনোযোগ দিয়ে এসব কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বিভেদ দূর করা এবং সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের

অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল আমিন উপস্থিত থেকে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় কলেজে অধ্যয়নরত দুজন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাবলম্বী করতে এক পাহাড়ি নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

সম্প্রতি পাবলাখালী শান্তিপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের সহায়তা, চারটি পাহাড়ি পরিবার ও একটি কিয়াং ঘর নির্মাণে টিন বিতরণও করা হয়, যা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় স্কুলের শিশুদের মাঝে খাতা, কলম, পেন্সিল ও বই বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা।

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের

এর আগে, একই ইউনিয়নের বাঙাল্যা পাড়ায় একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে সেনাবাহিনী, যেখানে শতাধিক দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পান। এদিনও দরিদ্র পরিবারের মাঝে চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়। যা, পরিদর্শন করেন রিজিয়ন কমান্ডার।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে সেনাবাহিনীর এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই ধরনের কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *