প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পরও সেবা পাচ্ছে না রোগীরা, অস্থায়ী ভবনেই রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পরও মেডিকেলের সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। গড়ে উঠেনি কোন অবকাঠামো। সামান্য অপারেশনের জন্য এখনো রোগীকে যেতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে নানা সংকটের কারণে রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, একশ শয্যার রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালকে ভিত্তি করে ২০১৫ সালে ১০ জানুয়ারী হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস করে যাত্রা শুরু করে মেডিকেল কলেজ। এখনো সেখানে রয়েছে কলেজটি। কলেজটির নামে গড়ে উঠেনি কোন অবকাঠামো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেডিকেলের ডাক্তারদের কোন সেবা পাওয়া যায় না। তারা শুধু পাঠদানে সীমাবদ্ধ। বিকালে কোন প্রসুতিকে হাসপাতালে আনা হলে তার জন্য কোন ডাক্তার পাওয়া যায় না। মেডিকেল কলেজে সকল বিভাগ চালু থাকলেও এসব বিভাগের ডাক্তারগণ হাসপাতালে সেবা দেন না বলে অভিযোগ আছে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মহসিন বলেন, মেডিকেল কলেজ থেকে আমরা যে সেবা পাবার আশা করেছিলাম সে আশা আমাদের পুরণ হয়নি। মেডিকেলে ক্লাশ শেষ করে ডাক্তাররা চট্টগ্রামে চলে যায়। ফলে রাঙামাটির কোন রোগীকে সামান্য অপারেশনের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হচ্ছে। মেডিকেল কলেজটি শুধু নামে, কাজের বেলায় নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জেনারেল হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় মেডিকেল কলেজের ডাক্তাররা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা। তবে রোগীদের অভিযোগ, দুপুরের পর ডাক্তার পাওয়া যায় না হাসপাতালে। এতে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়ে গাইনী রোগীরা। এ বিভাগে ২৪ ঘন্টা সেবার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শওকত আকবর বলেন, যা আছে তা দিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মেডিকেল পূর্ণাঙ্গভাবে করা হলে সেবা আরো বাড়বে। এটি সময় লাগবে। রোগীরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না এটি শতভাগ ঠিক। মেডিকেলের ডাক্তাররা যে রোগী দেখবে সে পরিবেশ তো তৈরি করা যায়নি। হাসপাতালে ডাক্তাদের বসার কক্ষও নেই। ডাক্তাররা সেবা দিতে চায় কিন্তু সে পরিবেশ গড়ে তোলা যায়নি। এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ভাবতে হবে। জরাজীর্ন অপারেশন কক্ষে লাইট জ্বলে না ঠিকমত। এ সমস্যার মাঝে অপারেশন করে কোন ডাক্তার তো বদনামের ভাগীদার হতে চায় না।
জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, ৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামোর উপর ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয় হাসপাতালটি। বর্তমানে রোগীর ভিড় সব সময়ে লেগে থাকে। মেডিকেলের ডাক্তাররা হাসপাতালে সময় দিলে সেবার মান আরো বাড়বে বলছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা, আল্টাসনোগ্রাফি, এক্স-রে করা হয়। যা আগে ছিল না।
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতান বলেন, নানান সংকটের মাঝে মেডিকেলের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে আমাদের। শুধু রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা নয়। মেডিকেল শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা ব্যাবহারিক ক্লাশ করতে পারছে না। জেনারেলে অবকাঠামো সংকট তীব্র। তিনি বলেন, মেডিকেলে একজন ডাক্তার যখন ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ওয়ার্ডে যায় তখন দেখা যায় সেখানে দাঁড়ানোর মত অবস্থা নেই। একটি মাত্র অপারেশন কক্ষ। গাইনী সার্জারী সব এক কক্ষে। সেটিও মানসম্মত নয় এবং খুব ছোট। অপারেশনে আধুনিক সরঞ্জামের অভাব তো রয়েছে। এভাবে তো একটি মেডিকেল চলতে পারে না। বর্তমানে ৫টি ব্যাচে ২৫০ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে পড়ছে। প্রথম ব্যাচের ৫০জন ডাক্তার হয়ে আগামী নভেম্বরে বের হবে। তাদের ইন্টার্নী করার পরিবেশ তৈরি করা যায়নি। মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরুও করা যায়নি। শুধু ডাক্তার থাকলে তো হবে না। এখানে সুবিধা থাকতে হবে। কিন্তু সেটি নেই। এখানে নানান সংকট দুর করা হলে মেডিকেলের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। কারণ মেডিকেল কলেজের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ফলে এ সেবা পেতে আরো ৭/৮ বছর বা বেশী সময় লাগতে পারে।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদার বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মাঝে স্বাস্থ্য সেবার কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এটি ঠিক রাঙামাটি জেনারেলে সেবার মান অতীতের চেয়ে অনেকে বেড়েছে। জেনারেলের আয়ের খাতা তাই বলে। বিভিন্ন সীমবদ্ধতার মাঝে মেডিকেলের কলেজের ডাক্তাররা জেনারেলে সময় দিলে রোগীরা আরেকটু ভাল সেবা পাবে।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে স্বাস্থ্য বিভাগটি জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগ। হাসপাতালে মেডিকেলের ডাক্তারদের সেবা প্রদানের বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, আমরা অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা সেবা দেন না। অবকাঠামো সংকটের ব্যাপারে বৃষকেতু চাকমা বলেন, জেলা পরিষদ চাইলে হাসপাতাল ভবন নির্মান করতে পারে না। হাসপাতাল ভবন নির্মান জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত নয়। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটের জন্য নির্মাণ করা ৩ তলা ভবনের ভিতরে শুরু হয়েছিল মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। প্রায় ৫ বছর পরও এ ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে মেডিকেল শিক্ষা ও সেবার কার্যক্রম।