আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে শীতবস্ত্র নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শীতপ্রবণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম সেনা জোন আবারও প্রমাণ করেছে—নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণ ও মানবিক দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী সদা তৎপর।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ১১ কিলোমিটার পূর্বে কুরুকপাতা ইউনিয়নের গর্জনী পাড়ায় এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সেনা সূত্র জানায়, আলীকদম সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাফসির মাহমুদের নেতৃত্বে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। শীতের তীব্রতা ও দুর্গমতার কারণে যেখানে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সরাসরি পাহাড়ি জনপদে গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন।
উক্ত কার্যক্রমে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ৫০ জন অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কারবারি এবং নারী-শিশুসহ পাহাড়ি এলাকার ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাফসির মাহমুদ বলেন, “আলীকদম সেনা জোন যেকোনো পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ যাতে শীত, দুর্ভোগ কিংবা সংকটে একা বোধ না করেন—সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।” তিনি আরও বলেন, “শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড শীতে পাহাড়ি এলাকায় জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। এমন সময়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি কম্বল বিতরণ তাদের জন্য বড় সহায়তা। তারা আলীকদম সেনা জোন তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়মিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে। একই সঙ্গে এটি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।