থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সহভাগিতা সম্মেলন: নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় বিজিবির সতর্ক অবস্থান

থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সহভাগিতা সম্মেলন: নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় বিজিবির সতর্ক অবস্থান

থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সহভাগিতা সম্মেলন: নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় বিজিবির সতর্ক অবস্থান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ধর্মীয় সহভাগিতা সম্মেলন–২০২৫ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।

সূত্র জানায়, ৪ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নেপিউপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ থানচি এরিয়ার শালোকিয়া পাড়ায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় আয়োজন আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সম্মেলন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মগুরু, সাধক ও অনুসারীরা শালোকিয়া পাড়ায় উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

নেপিউপাড়া বিওপি থেকে একটি টহল দল সার্বক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানস্থল পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কারবারিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন ধর্মীয় সম্মেলন আয়োজন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতি ও সহযোগিতার ফলে তারা নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থেকে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। এতে করে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিজিবির প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি ধর্মীয় সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর এমন ভূমিকা পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতেই বিজিবি নিয়মিতভাবে এ ধরনের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্মেলন চলাকালীন সময়জুড়ে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *