পানছড়ির সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ৩২ বিজিবির মতবিনিময়, ৩০০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি)।
একই সঙ্গে শীতের তীব্রতায় কষ্টে থাকা অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের ডাইনচন্দ্রবাড়ী বিওপির দায়িত্বাধীন শেফালীর দোকানের মোড় এলাকায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিবির খাগড়াছড়ির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম।
মতবিনিময় সভায় খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরান কবির উদ্দিনসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইন প্রতিরোধ এবং চোরাচালান কার্যক্রম বন্ধে বিজিবিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় গুজব, দালালচক্র ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা রোধে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় বক্তারা আসন্ন তীর্থমুখ মেলা (পৌষ সংক্রান্তি) উপলক্ষে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা উসকানি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে ডাইনচন্দ্রবাড়ী ও রুপসেনপাড়া বিওপির দায়িত্বাধীন এলাকার শীতার্ত, অসহায়, হতদরিদ্র ও দুস্থ ২০০টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন সেক্টর কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক। শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়াও উপ-শাখা সীপকস, খাগড়াছড়ির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সদরের আরও ১০০টি পরিবারকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৩০০টি পরিবার এই মানবিক সহায়তার আওতায় আসে।
এ সময় বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক”—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে সীমান্ত এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজিবির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।