রুমায় শীতার্ত মানুষের পাশে বিজিবির রুমা ব্যাটালিয়ন, ২৫০ পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
শীতের তীব্রতায় যখন পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম জনপদে অসহায় মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন মানবিক সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে রুমা উপজেলার চান্দাপাড়া, পাইন্দুপাড়া, সায়াগ্রাপাড়া, ছাইপো পাড়া, জাবালুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং সদরঘাট এলাকার শীতার্ত, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে মোট ২৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাসান শাহরিয়ার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর তিমির রঞ্জন মহান্ত এবং ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে বক্তারা বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দায়িত্ব শেষ করে না; বরং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে নিয়মিতভাবে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শীত মৌসুমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করা বিজিবির মানবিক দায়িত্বেরই অংশ।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হলেও অনেক পরিবার শীতবস্ত্র সংগ্রহে সক্ষম নয়। এ অবস্থায় বিজিবির এই সহায়তা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এক উপকারভোগী বলেন, “এই প্রচণ্ড শীতে কম্বল পাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। বিজিবি আমাদের কথা ভেবে পাশে দাঁড়িয়েছে।”
বিজিবি সূত্র জানায়, এর আগেও রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি) গরিব ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ত্রাণ সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে বিজিবির এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা ও সম্প্রীতির সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।