ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ি ও বাঙালিদের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান
1954-2025 - 1
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা, চাকরি কিংবা রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই যোগ্যতার ভিত্তিতে সমতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ যুব সংলাপে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে অংশ নিয়ে তারেক রহমান তরুণদের জন্য বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার থেকে যদি স্পষ্ট বার্তা যায় যে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না, তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতি অন্তত ৩০ শতাংশ কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়েও অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এক প্রশ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সরকারি চাকরিতে পাহাড়ি তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে দলের ভূমিকা জানতে চাওয়া হয়।
এর জবাবে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে কেউ ধর্ম বা অঞ্চল বিবেচনা করে আলাদা হয়নি। তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে সমতলের তরুণ যে সুযোগ পাবে, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণও ঠিক একই সুযোগ পাবে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও তিনি বলেছিলেন—বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সীমিত কোটা রেখে বাকিটা পুরোপুরি মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, তা সমতল বা পাহাড়—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়নসহ রাষ্ট্র গঠনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি তরুণদের পরামর্শ শোনেন এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তরুণ সমাজকে নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরতে বিএনপির এই ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ আয়োজনকে দলটির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।