আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ের হোস্টেল বিদ্যালয়ে ফেরাচ্ছে পাহাড়ি শিশুদের
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সদর থেকে পোয়ামুহুরী সীমান্ত সংযোগ সড়ক ধরে মোটরসাইকেলের এক ঘণ্টা বিশ মিনিটের যাত্রা শেষে পৌঁছানো যায় ইয়াংরিং ম্রো পাড়ায়।
পরিপাটি ও গোছানো পাড়ার মাঝখানে বয়ে গেছে পাথুরে একটা ঝিরি। তার পাশে ছোট বড় তিনটি ঘর এবং ছোট্ট একটি মাঠ ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী ছাত্র হোস্টেল ‘প্রেন্নই শিক্ষালয়’।
ম্রো ভাষায় ‘প্রেন্নই’ মানে দেশের আলো; নামের মতই হোস্টেলটিও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কুরুকপাতা ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ার জুমচাষিদের সন্তানের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর অগ্রদূত হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পাড়াটিতে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ৩টায় স্কুলের ক্লাসে পড়াশুনার মত শব্দ ভেসে আসছে।
একটি সেমি পাকা ঘরে ত্রিপল বিছিয়ে পড়াশোনা করছে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি লম্বা করে আরেকটা ঘর। ভেতরে মাচা আকারে সাজানো বেঞ্চে দুই সারিতে ২০ থেকে ৩০ জনের মত শিক্ষার্থী পড়াশোনার কাজে ব্যস্ত।

দুজন শিক্ষক তদারকি করছেন ঘুরে ঘুরে। এটা-ওটা দেখিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও আনন্দের সঙ্গে পড়ায় মনোনিবেশ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাই ম্রো সম্প্রদায়ের।
বর্তমানে এ হোস্টেলে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৪৪ শিক্ষার্থী। তার মধ্যে ১০৬ জন ছেলে ও ৩৮ জন মেয়ে। সবাই কাছের ইয়াংরিং মাংক্রাত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে
কিন্তু দুই বছর আগেও তাদের অনেকে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত না। পরিবারের জুমচাষ কেন্দ্রিক জীবনযাত্রার বাস্তবতায় অনেকে স্কুলে ভর্তি হলেও পরে ঝরে পড়ত। কিন্তু এই আবাসিক ছাত্র হোস্টেল আবার তাদের স্কুলে ফিরিয়ে এনেছে।
ম্রো সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেলটি গড়ে তোলার কারিগর সমাজকর্মী উথোয়াইংগ্য মারমা।
তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে জরুরি একটা কাজে এ এলাকায় এসেছিলেন। তখন খেয়াল করেন, পাড়ার বড়রা সবাই তখন জুমচাষের কাজে। শিশুদের অনেকে স্কুলে না গিয়ে বাবা-মার সঙ্গে জুমে চলে যায়। ঘরে ফিরে সন্ধ্যায়।

দিনভর জুমের কাজের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে আর কারও লেখাপড়া হয় না। ঘরেও নিজেদের সন্তানকে পড়ানোর মত কেউ নেই কারোর। অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়ে স্কুলের যাওয়ার ব্যাপারে খোঁজখবরও নেয় না। তাদের সন্তানরা সারাদিন দূরন্তপনায় মেতে থাকে।
এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সীমান্তের পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
মূলত মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদারকি করারও কোনো সুযোগ নেই।
তখন এই শিশুদের কথা ভেবে, তাদের স্কুল থেকে ঝরেপড়া ঠেকাতে এক জায়গায় রেখে লেখাপড়া করানোর চিন্তা থেকে হোস্টেল গড়ার কথা ভাবেন ৪৪ বছর বয়সী উথোয়াইংগ্য মারমা।
তিনি লামা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দুর্গম এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
মাস্টার পাড়া এলাকায় তার পরিচালিত আরও একটি অনাথ শিশু আশ্রম রয়েছে। সেখানেও বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকার দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধ, ধর্ষণ ও ভূমি দখল রোধে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তিনি পুরস্কৃতও হয়েছিলেন।
এই বয়সে তিনিও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে লামা সরকারি মাতামুহুরী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বান্দরবান সরকারি কলেজ শাখায় স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছেন তিনি।
হোস্টেল বিদ্যালয়ে ফেরাচ্ছে জুমচাষীর সন্তানদের
ইয়াংরিং পাড়ার বাসিন্দা সলে ম্রো নামে একজন নারী অভিভাবক বলেন, “প্রেন্নই হোস্টেল হওায়ার পর থেকে শিশুরা একসঙ্গে লেখাপড়া করছে। আমরা তো সবসময় জুমে থাকি। কেউ কেউ সঙ্গে করে জুমে নিয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় কেউ ঠিকমত মনোযোগ দিতে পারে না। হোস্টেল হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিতভাবে লেখাপড়া করতে পারছে তারা।

রুংওয়াই ম্রো নামে আরেক অভিভাবক জানান, “আমাদের তো বাইরে নিয়ে গিয়ে লেখাপড়া করানোর সুযোগ নেই। হোস্টেল হওয়ায় আমাদের অনেক উপকারে আসছে। হোস্টেলে রেখে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর সুযোগ পাচ্ছি।
“তাছাড়া, এখন স্কুলের চাইতে হোস্টেলে ভাল লেখপাড়া হয়। তারা একটা নিয়মের মধ্যে থাকে।”
হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা বাংলার পাশাপাশি নিজেদের মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে বলেও জানান হোস্টেলের সহকারী শিক্ষক রেং অং ম্রো।
তিনি বলেন, “আমরা হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা তিনজনই ম্রো ভাষার বর্ণমালা জানি। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ম্রো ভাষার বর্ণমালা শেখানো হয়।”
তিনি বলেন, “হোস্টেলে যতজন শিক্ষার্থী আছে তাদেরকে ম্রোভাষায় চিঠি লিখতে দেওয়া হয়েছিল। মোট শিক্ষার্থীর ৮০ ভাগ ছেলেমেয়ে নিজের মাতৃভাষায় চিঠি লিখতে পেরেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
ইয়াংরিং পাড়ার প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তারও হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের কথা জানান ।
তিনি বলেন, হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করার সুবিধার কারণে আশপাশের পাড়ার অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকেও এই হোস্টেলে রেখে দিয়েছে। হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান খুবই ভাল।
“শতকরা ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকে। বাকিরা হয়ত অসুস্থ কিংবা ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে যায়।”
তিনি বলেন, “আমাদের সরকারি স্কুলে দুজন বাঙালি শিক্ষক এবং তিনজন পাহাড়ি শিক্ষক রয়েছে। ভাষাগত তেমন সমস্য হচ্ছে না।
“তবে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে যারা রয়েছে ভাষাগত ব্যাপারে শুরুর দিকে একটু সমস্যা হয়। কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেলে পরে তারাও আয়ত্ত করে ফেলতে পারে।”
বাধা পেরিয়ে হোস্টেল
হোস্টেল প্রতিষ্ঠার বিষয় তুলে ধরে উথোয়াইংগ্য মারমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সীমান্তে জুমচাষি সন্তানদের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম পোয়ামুহুরী এলাকায় একটা মিডল পয়েন্ট দেখে হোস্টেলটি করার। যাবতীয় খরচ তারাই দেবে। আমরা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকব।
“একদিকে সীমান্তবর্তী; অন্যদিকে চারদিকে বন-জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম এলাকা। পাহাড়ে পাড়া-গ্রামগুলো হয় ছোট ছোট। দূরত্বও অনেক। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ার যেতে লাগে কয়েক ঘণ্টার সময়।
“পরে সবার সুবিধার্থে কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৬টি পাড়া মিলে এই হোস্টেলটি করা হয়েছে।”

অভিভাবকদের রাজি করাতেই অনেক সময় কেটে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “এলাকার কয়েকজন অভিভাবককে বুঝানো হল। দফায় দফায় মিটিং করতে হয়েছে। একটা কমিটিও করা হল। প্রতি সপ্তাহে একবার করে গিয়ে তদারকি করতে হয়েছে। অনেক সময় কেউ রাজি হয়, আবার কেউ হয় না।
“হঠাৎ কাউকে দরকার হলে পাড়ায় গিয়ে অথবা কারও মাধ্যমে খবর দিয়ে আনতে হয়েছে। এভাবে করে বেশ কয়েক মাস গেছে হোস্টেলটি দাঁড় করাতে।”
সবার সহযোগিতাতেই এমন উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে জানিয়ে উথোয়াইংগ্য বলেন, “হোস্টেল নির্মাণে প্রত্যেক পাড়ার পরিবার প্রতি ১০০ টাকা এবং ১০টি করে বাঁশ দিতে হয়েছে। ইয়াংরিং পাড়াবাসী দিয়েছে খুঁটির জন্য গাছ ও নির্মাণের স্বেচ্ছাশ্রম।
হোস্টেলের শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হোস্টেলের ছেলেমেয়েদের সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সারাদিনের জন্য কিছু নিয়ম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৫টায় ঘুম থেকে উঠা ও প্রার্থনা, ৬টা থেকে ৭টা নিজস্ব বর্ণমালা পড়া, ৮টায় সকালের খাবার, ৯টায় স্কুল যাওয়া।
স্কুল থেকে ফিরে বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খেলাধুলা, সাড়ে ৫টায় গোসল করা, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টায় স্কুলের পড়া, ৮ থেকে ৯টায় রাতের খাবার, ৯টা থেকে ১০টা আবার স্কুলের পড়া ও বাড়ির কাজ সম্পন্ন করা। সর্বশেষ ১০টায় ঘুম।

রাতে একটি ঘরে মেয়ে শিক্ষার্থীরা অপরটিতে ছেলে শিক্ষার্থীরা ঘুমায়। অপর ঘরটি কিচেন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
হোস্টেলের সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য তিনজন শিক্ষক রয়েছে। বাবুর্চি রয়েছে দুজন।
সবাই যেহেতু ভাত খেতে অভ্যস্ত। তিন বেলাতেই ভাত দেওয়া হয়। খাবারের তালিকায় তরকারি হিসেবে সবসময় সবজি থাকে। সবজির মধ্যে আলু, শিম, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া এবং পেঁপে রয়েছে। মাসে দুইবারের বেশি মাছ দিতে পারে না। আর মাংস কোনো সময় খাওয়ানো হয় না।
হোস্টেল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিন মাস অন্তর ১১ সদস্যের কমিটির মিটিং হয়ে থাকে।
পরিচালনা খরচের ঘাটতি
হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ধের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক চিংতুই ম্রো বলেন, খরচের জন্য প্রত্যেক অভিভাবকের কাছ থেকে মাসিক এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এসব টাকা দিয়ে কোনোভাবে খরচ কুলায় না।
কিন্তু অনেকে তাও দিতে পারে না। আবার যাদের মা-বাবা নেই অনাথ; তাদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয় না। তারা বিনামূল্যে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, জুমের মৌসুমে অনেক অভিভাবক তরকারি দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। তবে অন্য সময় শুধু সবজি এবং মাসে দুইবার মাছ খাবারের পেছনে মাসিক এক লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি মাসেই টাকা ঘাটতি পড়ে। এটা কমিটির সদস্যরা ম্যানেজ করে থাকেন।
আর হোস্টেলে সবসময় কেউ না কেউ অসুস্থ হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সামলানোর জন্য ওষুধপত্র নেওয়া থাকে। কিছু দিন আগেও একসঙ্গে ১০ জনের মত শিশু ডায়রিয়া হয়েছিল। উপজেলা সদর থেকে একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে এসে চিকিৎসা করাতে হয়েছিল।
শিক্ষকদের একজনের বেতন ১১ হাজার, আরেকজনের বেতন আট হাজার এবং অন্য আরেকজনের বেতন সাত হাজার করে দেওয়া হয়। বাবুর্চি দুজনকে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে।
টিকে থাকতে প্রয়োজন সহায়তা
হোস্টেল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইয়াংরিং পাড়ার কারবারী ইয়াংরিং ম্রো বলেন, খুব কষ্ট করে হোস্টেলটি দাঁড় করানো গেছে। শিক্ষক ও বাবুর্চিও পেয়েছি। এখন দুই বছরে শিক্ষার্থী বেড়ে গেছে। কিন্তু এখন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বেড়াঘর বেশি দিন টিকবে না। একটি ভবন হলে ভাল হয়। সবচেয়ে সমস্যা হল পানি। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরিতে পানি থাকে না। ছেলে-মেয়েদের দূরে গিয়ে গোসল করতে হয়। তবে পানির ব্যাপারে পাবলিক হেলথ থেকে একজন লোক আসছিল। তারা পানি ব্যবস্থা করার কথা বলে গেছে।”
এ বিষয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, “হোস্টেলের পাশে ঝিরিটা একেবারে শুকিয়ে গেছে। পানির উৎসও নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে কুয়ার সিস্টেম করা ছাড়া পানি পাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না। তবে পাথুরে মাটি হওয়ায় রিংওয়েলও বসানো যাবে বলে মনে হয় না।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দুর্গম এলাকার অনেক ছেলেমেয়ে এই হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। উপকার পাচ্ছে। কিন্তু অনেক অভিভাবক নিয়মিত মাসিক খরচ দিতে পারে না। তারা ঠিকমত হোস্টেল চালাতে পারবে কিনা আমার আশঙ্কা। কোনো কারণে যদি এটা বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎ এতগুলো ছেলেমেয়ে তখন কোথায় যাবে।”
দুর্গম এলাকায় আবাসিক পদ্ধতি ছাড়া ঠিকমত পড়াশুনা হয় না জানিয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো বলেন, “পাহাড়ে দুর্গম এলাকায় যারা জুমচাষ করে তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আবাসিক সিস্টেম খুবই উপযুক্ত। এটা ছাড়া উপায় নেই। তারা সারাবছর জুমচাষ নিয়ে ব্যস্ত। ছেলেমেয়েদের ঠিকভাবে লেখাপড়া করানোর সুযোগ নেই।
“সীমান্ত এলাকায় জুমচাষি ছেলেমেয়েদের জন্য যে হোস্টেলটি করা হয়েছে এটা খুব ইতিবাচক দিক। জেলা পরিষদের আমাদের অন্তর্বর্তী মেয়াদ শেষ এখন। রাজনৈতিক সরকার এসেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি তারা দেখতে পারে।”
পানির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে মাঠ পর্যায়ের কর্মী মো. রবিউল বলেন, এলাকায় পরিদর্শন করে দেখেছি, তারা খুবই পানি সংকটে ভুগছে। হোস্টেলের জন্য একটা রিংওয়েল স্থাপন করা হবে।
“তবে এটার জন্য সরকারিভাবে একটা নির্ধারিত ফি আছে। সেটা জমা দিলে আমরা কাজ শুরু করে দেব বলে জানিয়ে আসছি। তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “বরাদ্দ আসলে একটা জিএফএস-গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেমও (ঝিরিতে বাঁধ দিয়ে পাইপ দিয়ে সরবরারে ব্যবস্থা) করে দেওয়ার কথা বলেছি। জিএফএস হলে হোস্টেলসহ সেখানকার তিন পাড়বাসীর পানি পেতে আর কোনো সমস্যা হবে না।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
সীমান্ত এলাকার এ ছাত্র হোস্টেল বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, “তারা খাদ্যশস্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিল। সেটা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তারা কিছুটা হলেও খাবার যোগান দিতে পারবে।
“অথবা ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা পেলেও অন্য কাজে লাগাতে পারবে। পানির সংকটের ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে খোঁজ নেওয়া হবে।”
এ ছাড়া পোয়ামুহুরী সীমান্ত এলাকায় গেলে হোস্টেলটি পরিদর্শন করে দেখবেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর