সাবেক সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে তোলপাড়

সাবেক সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে তোলপাড়

সাবেক সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে তোলপাড়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২০ সালে লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার সময় ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, বইটিতে এমন দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ নিয়ে পার্লামেন্টে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হট্টগোল ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জেনারেল নারাভানের ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ নামক এই স্মৃতিকথাটি ২০২৪ সাল থেকে সরকারের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ‘দ্য ক্যারাভান’ ম্যাগাজিনে বইটির কিছু অংশ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে রাহুল গান্ধী ওই নিবন্ধের ফটোকপি থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজেপি সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন। রাহুল বলেন, বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে চীনের ট্যাংক যখন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করছিল, তখন নারাভানকে বলা হয়েছিল ‘যা উপযুক্ত মনে হয় তা-ই করতে’। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাদাখ সংকটের সময় নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনাথ সিং বলেন, রাহুল গান্ধী যে বইটির কথা বলছেন সেটি এখনও প্রকাশিতই হয়নি। তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে হাউজকে বিভ্রান্ত করছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও রাহুল গান্ধীর এই আচরণের সমালোচনা করেন।

মঙ্গলবারও এই ইস্যুতে পার্লামেন্টে হট্টগোল অব্যাহত থাকে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কংগ্রেসের ৮ জন সংসদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার পার্লামেন্টের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে অপ্রকাশিত বইটির একটি অনুলিপি প্রদর্শন করে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য সত্য নয়। তিনি বই থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, নারাভান নিজেকে ‘পরিত্যক্ত’ ও ‘একা’ অনুভব করেছিলেন কারণ শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ ছিল না।

২০২০ সালের গ্রীষ্মে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় এবং অন্তত ৪ জন চীনা সেনা নিহত হন। ১৯৭৫ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী সংঘাত।

জেনারেল এম এম নারাভান ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল কোনও তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের ছাড়পত্র নিতে হয়। নারাভান গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার প্রকাশকের আলোচনা চলছে।

এর আগেও ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ভি পি মালিক ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ নিয়ে বই লিখেছিলেন। তবে নারাভানের এই অপ্রকাশিত বইটির বিষয়বস্তু বর্তমান মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed