মিয়ানমারে সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে জান্তার নতুন দফতর

মিয়ানমারে সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে জান্তার নতুন দফতর

মিয়ানমারে সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে জান্তার নতুন দফতর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

নির্বাচনের নামে ক্ষমতা হস্তান্তরের নাটক শেষ না হতেই মিয়ানমারে ক্ষমতার নতুন কাঠামো আঁটছে জান্তা। ইউনিয়ন কনসালটেটিভ কাউন্সিল নামে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব সম্পন্ন পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সামরিক শাসক। পাঁচ সদস্যের এই পরিষদের মাধ্যমে সেনা ও বেসামরিক দুই প্রশাসনের ওপরই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করছেন মিন অং হ্লাইং।

একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে বিমান ও ড্রোন হামলা, নৌ গোলাবর্ষণ ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ। এর মধ্যেই গেলো বছর দুই হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তিন ধাপে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পার্লামেন্টের দুই কক্ষ মিলিয়ে ৮১ শতাংশ আসন জয়ের দাবি করেছে জান্তা সমর্থিত দল ইউএসডিপি। তবে জাতিসংঘ পশ্চিমা দেশ আর মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে একতরফা ও সাজানো নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছে।

অন্তত ৭৫ লাখ মানুষ ভোটের বাইরে ছিলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো বাতিল করা হয়, আর নির্বাচন সমালোচনায় ‘ইলেকশন প্রোটেকশন আইন’-এ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়। আসিয়ানও এই নির্বাচন অনুমোদন না দেয়ার কথা জানিয়েছে।

তবে ক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন কাঠামো তৈরি করছে জান্তা। মিয়ানমারে সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব সম্পন্ন পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। পাঁচ সদস্য নিয়ে গঠন করা এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই।

পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা এমনকি আদালতের ওপরেও থাকবে এই পরিষদের কর্তৃত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হলেও সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব হাতছাড়া না করেই নতুন সেনাপ্রধান ও ভবিষ্যৎ সরকার দুই পক্ষের ওপরই তিনি তদারকি করতে পারবেন। এই কাঠামোর কোনো জবাবদিহি ব্যবস্থাও নেই বলে সতর্ক করছেন নীতিনির্ধারক গবেষকরা।

রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আড়ালে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণের তানিনথারি অঞ্চলে শহরের বাইরে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে জান্তা বিমান ও ড্রোন হামলা, যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ বাড়িয়েছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও গবেষকরা। দেশজুড়ে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি এসিএলইডি’র।

মানবাধিকারের চিত্র আরও ভয়াবহ। বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক বলছে, পাঁচ বছরে হাজারো বেসামরিক নিহত, ৩০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি ও অন্তত ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর মসজিদে অভিযান, ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস, কবরস্থান দখল ও ঘৃণামূলক উসকানির অভিযোগ রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed