পাহাড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সশস্ত্র হুমকির অভিযোগ জেএসএসের বিরুদ্ধে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ কামনা

পাহাড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সশস্ত্র হুমকির অভিযোগ জেএসএসের বিরুদ্ধে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ কামনা

পাহাড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সশস্ত্র হুমকির অভিযোগ জেএসএসের বিরুদ্ধে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ কামনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি সশস্ত্র হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস-এর পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

এসিএইচআর-এর রিসার্চ প্রধান জন ডোলি গত ৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মাইকেল মিলারকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী পহেল চাকমা এবং খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও তাঁদের নির্বাচনী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এসিএইচআর অভিযোগ করে, এই হুমকিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর একটি সশস্ত্র গ্রুপের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গতমাসের ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পহেল চাকমা রাঙামাটি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, সন্ধ্যা আটটার দিকে রাঙামাটির ককবরক ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টে পিসিজেএসএসের দুই ব্যক্তি তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেন এবং তা না মানলে হত্যার হুমকি দেওয়া হবে। পরে ২৭ জানুয়ারি তাঁর ভাইকেও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমার ক্ষেত্রেও নথিতে একাধিক হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে জাল প্রত্যাহারপত্র জমা দেন। যদিও জেলা প্রশাসক তা গ্রহণ করেননি, কিন্তু ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর ধর্মজ্যোতি চাকমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের কাছ থেকে ধারাবাহিক হুমকি পেয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পিসিজেএসএসের গ্রুপ কমান্ডার নেত্র স্বপন চাকমা সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

এসিএইচআর জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৭৫ জন সশস্ত্র পিসিজেএসএস সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা। নথিতে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর সমন্বয় ও সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।

নথিতে পিসিজেএসএসকে সরকারপৃষ্ঠপোষক আধাসামরিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পরও সংগঠনটির সশস্ত্র কাঠামো বহাল রয়েছে। সন্তু লারমা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এসিএইচআর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো,
  • সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
  • বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ করা,
  • পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাধ্য করা।

এসিএইচআর-এর মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধরনের হুমকি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও অবাধ নির্বাচনের অধিকারকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।

প্রসঙ্গত: পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর এই ধরনের হুমকি ও প্রভাব বিস্তারমূলক কর্মকাণ্ড নির্বাচনী অখণ্ডতা ও শান্তিপূর্ণ ভোটাধিকার নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সতর্কতার দাবি তুলেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed