মণিপুরে বিধানসভা অধিবেশন শুরু: রাষ্ট্রপতির শাসন প্রত্যাহারের একদিন পর রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা

মণিপুরে বিধানসভা অধিবেশন শুরু: রাষ্ট্রপতির শাসন প্রত্যাহারের একদিন পর রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা

মনিপুরে বিধানসভা অধিবেশন শুরু: রাষ্ট্রপতির শাসন প্রত্যাহারের একদিন পর রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মণিপুরে ১২তম বিধানসভার ৭ম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ঘটে রাষ্ট্রপতির শাসন (আর্টিকেল ৩৫৬) প্রত্যাহারের ঠিক একদিন পর, যা ৩৫৬তম দিনে কার্যকর হয়েছে। অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন রাজ্যপাল, যা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে।

রাজ্যপালের ভাষণে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ি ও ভ্যালি জেলা জুড়ে সংঘটিত জাতিগত সহিংসতার পর মনিপুর এখনও একটি ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতির মুখোমুখি। নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও শান্তি এখনও ভঙ্গুর এবং এর জন্য ধারাবাহিক নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

রাজ্যপাল বলেন, শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সরকারী অগ্রাধিকার হিসেবে সর্বোচ্চ স্তরে বিবেচিত। তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সহিংসতা, সশস্ত্র কার্যক্রম ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বে জোর দেন। এছাড়া লুটপাট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সংবেদনশীল এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য চলমান প্রচেষ্টা সম্পর্কেও তিনি House-কে অবহিত করেন।

অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের (IDPs) পুনর্বাসন। রাজ্যপাল জানান, সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ এখনও ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন। সরকার তাদের জন্য পর্যায়ক্রমিক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অস্থায়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকা সহায়তা। বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে নারী, শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার উপর সহিংসতার প্রভাবও তিনি তুলে ধরেন। অনেক এলাকায় হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে সেবা ব্যাহত হয়েছে, যা দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রণালী চালু করা হয়েছে যাতে তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা যায়।

মাদকপাচার ও অবৈধ আফিমচাষকে মনিপুরের সামাজিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। তিনি সরকারের সক্রিয় ও শক্তিশালী অ্যান্টি-ড্রাগ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।

শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাজ্যপাল স্বচ্ছ, জনগণ-কেন্দ্রিক এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনের গুরুত্বে জোর দেন, বিশেষ করে সংঘাত পরবর্তী সময়ে। তিনি আইনপ্রণেতাদের একসঙ্গে কাজ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জননির্ভরতা পুনঃস্থাপন এবং কল্যাণমূলক প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, মণিপুরের এই অধিবেশন শান্তি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed