পোখরানে ‘বায়ুশক্তি-২৬’: আকাশযুদ্ধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রদর্শন ভারতীয় বিমানবাহিনীর

পোখরানে ‘বায়ুশক্তি-২৬’: আকাশযুদ্ধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রদর্শন ভারতীয় বিমানবাহিনীর

পোখরানে ‘বায়ুশক্তি-২৬’: আকাশযুদ্ধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রদর্শন ভারতীয় বিমানবাহিনীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাজস্থানের জয়সলমির জেলার পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়া ‘এক্সারসাইজ বায়ুশক্তি-২৬’ পরিচালনা করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। দিন-রাতব্যাপী এ মহড়ায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধপরিসরে সমন্বিত আকাশ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতি প্রদর্শন করা হয়।

অগ্নিশক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজস্থানের রাজ্যপাল হরিভাউ কিষানরাও বাগদে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং, জ্যেষ্ঠ আমলা ও চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহানসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে, ভেটেরান, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রাষ্ট্রপতি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’-এ (HAL Prachand) একটি সোর্টি সম্পন্ন করেন, যা প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।

প্রথমবারের মতো এ মহড়ায় একটি নির্ধারিত অপারেশনাল কাহিনি অনুসরণ করা হয়, ফলে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় সিমুলেটেড লাইভ কমব্যাট থিয়েটারে। এতে আক্রমণাত্মক আকাশ হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযান, বিশেষ বাহিনীর মিশন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম একত্রে পরিচালিত হয়—সংকটকালে বহুমাত্রিক বাহিনী ও ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে বিমানবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মহড়ার সূচনা হয়। পরে চেতক হেলিকপ্টারের আনুষ্ঠানিক ফ্লাইপাস্টে জাতীয় পতাকা, বিমানবাহিনীর এনসাইন ও ‘অপারেশন সিন্দুর’ পতাকা বহন করা হয়। এরপর একটি রাফাল যুদ্ধবিমান (Dassault Rafale) সোনিক বুম প্রদর্শনের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার যুদ্ধাভিনয়ের সূচনা করে।

দিন-রাতব্যাপী এই মহড়ায় ১৩০টির বেশি উড়োজাহাজ অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী বহরে ছিল রাফাল, সু-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০, মিগ-২৯, জাগুয়ার ও হক যুদ্ধবিমান; এমআই-১৭ হেলিকপ্টার; এবং সি-১৩০জে, সি-২৯৫ ও সি-১৭ পরিবহন বিমান। দেশীয় অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ‘ধ্রুব’ (HAL Dhruv) ও লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’ও এতে অংশ নেয়।

যুদ্ধবিমানগুলো উন্নত এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র ও দীর্ঘপাল্লার স্ট্রাইক সক্ষমতা ব্যবহার করে সিমুলেটেড শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানে। আকাশ প্রতিরক্ষা পর্বে আকাশভিত্তিক সম্পদ ও স্থলভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে লক্ষ্যভেদ প্রদর্শন করা হয়। এতে ‘আকাশ’ ও ‘স্পাইডার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সেনাবাহিনীর এল-৭০ ও এম-৭৭৭ গান ব্যবহারের মাধ্যমে আকাশ-স্থল সমন্বিত অভিযানের চিত্র তুলে ধরা হয়।

বিশেষ অভিযান ছিল মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ধ্যার পর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গারুড় বিশেষ বাহিনী ও প্যারা এসএফ সদস্যদের নামিয়ে শহুরে হস্তক্ষেপ ও জিম্মি উদ্ধারের অনুশীলন করা হয়। পরে পরিবহন বিমান অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে অ্যাসল্ট ল্যান্ডিং ও সরিয়ে নেওয়ার মহড়া চালায়, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

রাতের পর্বে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ও এয়ার-ল্যান্ডেড অপারেশন পরিচালিত হয়। একাধিক যুদ্ধবিমান প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্ভুল নিশি হামলার মধ্য দিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপারেশনাল সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

শেষে সি-১৭ পরিবহন বিমানের প্রতীকী ‘সিজফায়ার’ ফ্লাইপাস্ট এবং ড্রোন প্রদর্শনের মাধ্যমে মহড়ার সমাপ্তি ঘটে। ‘অচুক, অভেদ্য ও সতীক’—এই মূলমন্ত্রে পরিচালিত ‘বায়ুশক্তি-২৬’ মহড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর অপারেশনাল নীতি, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার যাচাই হিসেবে তুলে ধরা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।