নিহত কর্মীকে জেএসএস বহন করে নিয়ে যাচ্ছে দাবিতে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের ছবি প্রচার
![]()
নিউজ ডেস্ক
সম্প্রতি, ফেসবুকে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের বগা পাড়ায় নিহত এক কর্মীকে জেএসএস সন্তু পন্থীরা বহন করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এটি।
উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত বছরের নভেম্বরে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত মিজোরামের লং তালাই এবং শাহার জেলায় কলেরা প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া একজনকে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময়ে তোলা ছবি এটি, যা এআই এর মাধ্যমে সম্পাদনা করে প্রচার হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Mizzima’ নামের ভারতের দিল্লী ভিত্তিক মায়ানমার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক সংবাদে প্রায় একই ছবির খোঁজ পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে প্রচারিত ছবিটি বেশ পরিষ্কার হলেও মিজিমার ছবিটি কিছুটা ঝাপসা এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকেও কিছুটা অমিল পাওয়া যায়। তবে দুই ছবির আনুষঙ্গিক সকল উপাদানের সাদৃশ্য দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছবি দুটো একই।
বর্তমানে প্রচারিত ছবিটি পুরোনো ভার্সন থেকে সম্পাদনা করে প্রচার হতে পারে এমন সম্ভাবনা থেকে গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID) মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। জেমিনি জানায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।
গুগলের সিন্থআইডি (SynthID) প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। গুগলের দাবি, কনটেন্ট তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই এই ওয়াটারমার্ক যুক্ত হয় এবং ক্রপ করা, ফিল্টার প্রয়োগ বা ফ্রেম রেট পরিবর্তনের মতো সম্পাদনার পরও এটি টিকে থাকে। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে জিজ্ঞেস করলেই সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়।
মূল ছবিটির বিষয়ে মিজিমার ওয়েবসাইটে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বরে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত মিজোরামের লং তালাই এবং শাহার জেলায় কলেরা প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়। গণমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, এসব এলাকায় মিয়ানমারের শরণার্থীরা বাস করেন এবং ৪ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ৭ জন সেখানে মারা গেছেন। প্রতিবেদনে ছবিটির বিষয়ে বলা হয়, সেখানকার কাকি নামে একটি গ্রামে কলেরায় মারা যাওয়া একজনকে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময়ে তোলা ছবি এটি।
অর্থাৎ, ছবিটি বাংলাদেশের নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, সেদিন বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় জেএসএসের (মূল) সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেনাসদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটিকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কালে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেএসএস সদস্যরা পালানোর চেষ্টার সময় সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলিবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করে তাদের ধাওয়া করে। প্রাথমিকভাবে তারা একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ওই স্থান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই অভিযানে সেনা টহল দল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামের একজন সশস্ত্র জেএসএস সদস্যকে অস্ত্র–গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো জানায়, বান্দরবানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা একজন নিহত হয়েছে।
সুতরাং, খাগড়াছড়িতে নিহত কর্মীকে জেএসএস সন্তু পন্থীরা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে দাবিতে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের ছবি প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।


