দীঘিনালায় হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশে ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সেনাবাহিনী - Southeast Asia Journal

দীঘিনালায় হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশে ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সেনাবাহিনী

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সম্প্রতি বান্দরবানের লামায় দুর্গম একটি পাহাড়ী গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশু মারা যায়, এ ঘটনার ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঐ এলাকায় হামে আক্রান্ত আরো অন্তত ৩৩ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে উপজেলা সদরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এরপর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শিয়ালদহে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। মহামারি হামে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মারা যায় ৮শিশু। এরপর দ্রুত গতিতে সেখানে গিয়ে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আক্রান্ত ৫শিশুকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সেনাবাহিনী। বান্দরবান আর রাঙামাটির পর এবার পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও হামের প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দীঘিনালায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১শিশু নিহত ও আরো ৩০জন আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা সদরের ভাইবোনছড়াও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত অর্ধশত শিশু।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ১শিশু নিহতের পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত ৩০শে মার্চ সোমবার আক্রান্ত আরো ৫শিশুকে উপজেলা সদরে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার দীঘিনালার হামে আক্রান্ত দুর্গম রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়ায় হামে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী।

৩১শে মার্চ সকালে সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন থেকে মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ আহসান হাবিব (নোমান) এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম দুর্গম রথিচন্দ্র পাড়ায় গিয়ে সেখানে বসবাসরত দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মান করে সেখানে হামে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।

এখানে উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। দূর্গমতার কারণে শিয়ালদহ এলাকায় প্রায়শই অভাব অনটনসহ বিভিন্ন মহামারির প্রকোপ দেখা দেয়। এখানে সুপেয় পানি সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। তাই ঐ এলাকার নিরীহ জনগণকে নিজেদের শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন করতে হয়। ইতিপূর্বে ২০১৫ সালে ব্যাপকভাবে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে শিয়ালদহে প্রায় শতাধিক ব্যক্তিবর্গ মৃত্যুবরণ করে। ঐ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল হেলিকপ্টারে করে সেখানে গিয়ে একটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে চিকিৎসা তৎপরতা পরিচালনা ও স্থানীয় জনগণকে প্রতিকুলতার মধ্যেও সুপেয় পানি সংগ্রহ করার বিভিন্ন পদ্ধতিমূলক প্রেষণা প্রদান করার ফলে বিপদজনক হয়ে উঠা মহামারি রোধ করা সম্ভব হয়েছিলো। সেসময়কার মতো বর্তমানেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের এই দূর্যোগ মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছে।

You may have missed