যুদ্ধবিরতির পর উত্তেজনা কমছে মিয়ানমারের শান রাজ্যে
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের উত্তর শান রাজ্যের চীন সীমান্তবর্তী নামখাম এলাকার বিভিন্ন অবস্থান থেকে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) তাদের সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নামখামের পূর্বে পান সে এলাকায় শক্তিশালী অবস্থান থেকে এমএনডিএএর দুটি বহর সরে যেতে দেখা গেছে। সকালে প্রায় ৩০টি যানবাহনে ড্রোন, আর্টিলারি, গোলাবারুদ এবং ৩০০-এর বেশি সদস্য নিয়ে একটি বহর এলাকা ত্যাগ করে। পরে বিকেলে আরও ৪৭টি যানবাহনের একটি বহর একই পথে চলে যায়। উভয় বহরই নামখাম–নাম হপাট কার সড়কের একটি কৌশলগত পাহাড়ি চৌকি হয়ে কুটকাইয়ের দিকে অগ্রসর হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সংঘর্ষ শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সবাই আতঙ্কে ছিল। এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
তবে বাসিন্দাদের মতে, এমএনডিএএর কিছু সদস্য এখনো ওই পাহাড়ি চৌকিতে অবস্থান করছে।
গত বৃহস্পতিবার ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের এই দুই সদস্যের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরই এই প্রত্যাহার শুরু হয়। ২০২৩-২৪ সালে যৌথভাবে ‘অপারেশন ১০২৭’ চালিয়ে তারা উত্তর শান রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছিল। পরে চীনের চাপের মুখে তারা সামরিক জান্তার সঙ্গে পৃথক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূখণ্ডগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং কুটকাই এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত এমএনডিএএর দখলে চলে যায়।
টিএনএলএর মুখপাত্র লওয়ে ইয়ায় ওও নিশ্চিত করেছেন যে, কুটকাই এখন এমএনডিএএর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা প্রায় ১০০ জন আটক টিএনএলএ যোদ্ধাকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষ এখনো মিত্র হিসেবে রয়েছে এবং সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
কুটকাইয়ের বাসিন্দারা জানান, এমএনডিএএর কর্মকর্তারা রোববার ও সোমবার তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং জুয়া, মাদক ও অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় টিএনএলএর প্রতিনিধিরা এমএনডিএএর প্রতি তাআং জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান দেখানো, তাদের পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং তাআং গ্রামগুলোতে টিএনএলএ যোদ্ধাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে খবর পাওয়া যায়, এমএনডিএএর কর্মকর্তারা কুটকাইয়ের পশ্চিমে তাআং অধ্যুষিত এক ডজনের বেশি গ্রামের প্রবীণদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন না করা এবং তাআং ভাষায় সাইনবোর্ড ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের বলা হয়েছে গ্রামগুলোর সাইনবোর্ড থেকে তাআং পতাকা সরিয়ে ফেলতে এবং স্কুলে তাআং ভাষা ব্যবহার না করতে।”
এমএনডিএএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পালিয়ে যাওয়া টিএনএলএ যোদ্ধারা তাদের অস্ত্র ও ইউনিফর্ম জমা দিয়ে উপজেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন। এমএনডিএএর এক কর্মকর্তা দ্য ইরাওয়াডিকে বলেন, “নিবন্ধন মানে গ্রেপ্তার নয়।” তিনি আরও জানান, টিএনএলএর সাবেক তথ্যদাতা বা সমর্থকদেরও আটক করা হবে না।
তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে আটক টিএনএলএ যোদ্ধাদের মংকো এলাকায় “সঠিকভাবে” রাখা হয়েছে এবং তাআং তরুণদের জোরপূর্বক নিয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এছাড়া সীমান্তবর্তী ১০৫ মাইল মিউজ বাণিজ্য এলাকায়ও এমএনডিএএ টিএনএলএর সদস্যদের আটক করে রেখেছে বলে জানা গেছে। এই এলাকা ‘অপারেশন ১০২৭’-এর সময় এমএনডিএএ, টিএনএলএ ও আরাকান আর্মি (এএ) যৌথভাবে দখল করে এবং পরে একসঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।
অন্যদিকে, কুটকাই উপজেলার অন্তর্গত নাম হপাট কার এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই এলাকা বর্তমানে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেখানে এমএনডিএএ এবং কেআইএ উভয়ই নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।