পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য জনপদ আলীকদম উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় মানুষের জীবনরক্ষায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের ব্যবস্থাপনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ আবুল হাসান পলাশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনজুর আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হাসান।
ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক সময় মূল্যবান ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয়, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সেনাবাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।

এই কর্মসূচির আওতায় আলীকদম উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৭ জন প্রশিক্ষণার্থী (১৯ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী) নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দিতে সক্ষম হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
- তীব্র রক্তক্ষরণ বন্ধ ও জখমের প্রাথমিক চিকিৎসা
- হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনা
- সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে যাওয়া রোগীর জীবনরক্ষাকারী করণীয়
- অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা ও নিরাপদে হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি

উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণ স্থানীয়দের মধ্যে এমন একটি দক্ষতা তৈরি করবে, যা জরুরি মুহূর্তে জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশার আলো। দুর্গম অঞ্চলে যেখানে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত, সেখানে প্রশিক্ষিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আলীকদম সেনা জোনের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রথম প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করবেন এবং অনেক সম্ভাব্য জীবনহানি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।