লংগদুতে এ্যম্বুলেন্স চালক রতন চাকমার অবহেলায় তিন দিনের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

লংগদুতে এ্যম্বুলেন্স চালক রতন চাকমার অবহেলায় তিন দিনের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

লংগদুতে এ্যম্বুলেন্স চালক রতন চাকমার অবহেলায় তিন দিনের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যম্বুলেন্স চালকের অভিযোগিত অবহেলার কারণে তিন দিনের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা পরিবার ও স্থানীয় সমাজে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শিশুটির বাবা মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি জানান, তিন দিনের সন্তান পায়খানা ও প্রস্রাবজনিত সমস্যার কারণে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি অথবা চট্টগ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে পার্শ্ববর্তী একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকও একই পরামর্শ দেন, ফলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরে আসতে হয়।

আক্রান্ত বাবা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে এ্যম্বুলেন্স পাঠানো হলেও চালক দেরি করেন। তিনি নিজে বাড়িতে গিয়ে দ্রুত আসার জন্য অনুরোধ করেন। অর্ধাঘণ্টা পরে ডাক্তারের কল পাওয়ার পর চালক হাসপাতালে পৌঁছান। এর আগে চালক রতন চাকমা তাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা দাবি করেন, যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে জানিয়েছিলেন সরকারি খরচ ১৪০০ টাকা। পরবর্তীতে পনেরশ টাকা দেওয়া হলেও চালকের আচরণকে অভিভূতকারী ও অবমাননাকর হিসেবে বর্ণনা করেন মো. আরিফুল।

এদিকে এ্যম্বুলেন্সের মধ্যবর্তী যাত্রাতেও চালক রতন চাকমা অভিযোগ অনুসারে মেরুং বাজারে থামেন এবং স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট কথোপকথন করেন। খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পৌছালে চালক অক্সিজেন লাইন খোলা রাখার পরামর্শ দেন, যা পরিবারের পক্ষ থেকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পূর্ণরূপে মানা হয়। জরুরি বিভাগের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মো. আরিফুল বলেন, এক সপ্তাহ আগে তার বাবা মারা গেছেন। এখন তার তিন দিনের সন্তানও হারানোয় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যম্বুলেন্স চালক রতন চাকমা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাড়তি ভাড়া দাবি করা হয়নি এবং গালিগালাজের ঘটনা ঘটেনি। শিশুটি মহিলার কোলে থাকায় তিনি অক্সিজেন লাইন খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিশাত জাহান নওরীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। চালককে শোকজ করা হয়েছে। তবে কোন অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, বিষয়টি শুনেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে চালকের কোন গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিবহনের ক্ষেত্রে পাহাড়ি অঞ্চলের অবকাঠামো ও মানবসম্পদে ঘাটতির সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed