করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মজীবিদের নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুভূতি
![]()
নিউজ ডেস্ক
মাইকিং, প্রচারণা ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েও উপজেলায় বাইরে থেকে আসা কর্মজীবিদের প্রবেশ ঠেকাতে না পারায় হতাশ বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন। দ্বিধা আর সংশয়ে পুরো পরিস্থিতি মেনে নিলেও এ নিয়ে শংকা কাটেনি তাদের, এমনটাই বোঝা গেলো বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসে। নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেয়া সুদর্শন চাকমার সেই আগেবঘন স্ট্যাটাসটি পাঠকদের সুবিধার্থে হুবুহু তুলে ধরা হলো,

‘অনেক সময় সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়নের বাস্তবতা মিল থাকে না। আমরা বাস্তবতার কাছে হার মেনেছি। তাই ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে আগত কর্মজীবি বন্ধুদের মানবিক ও যৌক্তিক কারনে এলাকায় ঢুকানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছি। এতে বিশেষতঃ উপজেলা প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব- আহসান হাবিব জিতু সাহেবের দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছে। এ কাজে আমরা শুধু মাত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাকে সহযোগিতা করেছি, তার কি পরিমান অবদান/ পরিশ্রম ছিল তা আমরা সকলেই অবগত। তাছাড়া আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সেনা, বিজিবি, পুলিশের ভুমিকাও উল্লেখযোগ্য। বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসী পক্ষ থেকে তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আসলে, বাঘাইছড়িকে নিরাপদ রাখতে বাইরের মানুষদের ঢুকতে না দেওয়া প্রশাসনের সিদ্ধান্ত যেমন সঠিক, আবার কর্মজীবিরা আসতে বাধ্য সেটাও যৌক্তিক। সুতরাং ফলাফল ধরে নিতে হবে- যৌক্তিক( সন্তোষ)+সিদ্ধান্ত(হতাশা)=যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি অনেকটা হ-য-ব-র-ল হয়ে গেল। অর্থাৎ আমরা যারা বাইরের মানুষ না ঢুকানোর পক্ষে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরলাম। আর যারা ঢুকতে পেরেছে বা তাদের পক্ষে লোকেরা সন্তুষ্ট হয়ে গেল। সচরাচর রাস্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্বে যারা তারা যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর থাকতে চান, আর আমার মত জনপ্রতিনিধিরা যেহেতু (জন+প্রতিনিধি) সেহেতু স্বাভাবিকভাবে আমরা কঠোর হতে পারি না। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তটাই সঠিক ছিল, ইউএনও সাহেব মানবিক বলেই এবং বাস্তবতা বুঝেই আর আমাদের কথা রক্ষা করতে গিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া প্রশাসন শুধু এক জায়গায় ঠিক থাকলে চলে না। চট্টগ্রাম, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, মানিকছড়ি, গুইমারা, মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও দিঘীনালা উপজেলা পার হয়ে যদি তারা আসতে পারে, নিজ এলাকায় বাঘাইছড়ি ঢুকতে না দেওয়া কোনভাবেই যৌক্তিকতার মধ্যে পড়ে না। আমি এই যৌক্তিকতাকে এবং অবস্থাকে বিবেচনা করে সাথে সাথে বাঘাইছড়ি প্রশাসনকে আমাদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে অনুরোধ করেছি। যার ফলে আগত লোকদের অপেক্ষার কষ্ট পোহাতে হলেও পরবর্তীতে ঢুকানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যাক, আমরা সকলেই জানি মূলতঃ বিদেশ থেকেই করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে আমদানি হয়েছে যেমন- করোনা প্রবন দেশ চীন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন, সৌদি আরব থেকে যারা দেশে ফিরেছে তারাই এ ভাইরাসের বাহক। চীনে বা বিদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সাথে সাথে যদি সরকার বিমানবন্দর, স্থলবন্দর লগ ডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতো, তাহলে আমাদের বাংলাদেশ করোনায় আক্রান্ত হতে পারতো না। ঠিক তেমনি বর্তমানে আমাদের দেশে ১৭ টি জেলা করোনা মুক্ত জেলা রয়েছে, তার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা। আমরা যদি করোনা প্রবন জেলা গুলো থেকে লোকজন আসা যাওয়া বন্ধ করতে সক্ষম হতাম, তাহলে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে শতভাগ নিরাপদ থাকতে পারতাম। বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন সে প্রচেষ্টা করেছিল বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসীকে করোনা থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু আমরা যৌক্তিক বাস্তবতার কাছে হার মেনে আগত মানুষদের ফিরাতে ব্যর্থ হয়েছি। নিজ এলাকায় আসা তাদের অধিকার এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু, এখন সকলের উৎকন্ঠা বেঁড়েই গেল, আগামী ১৫ দিন পর বুঝা যাবে পরিস্থিতি কেমন হয়। স্থানীয় জনগন যদি সচেতন হয়ে আগত লোকদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখতে না পারে তাহলে বাঘাইছড়ির পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করবে। যা আমরা কেউই কল্পনা করতে পারবো না। আমাদের বাঘাইছড়ি উপজেলাতে অনেক লোক ঢুকে পড়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরী। তাদেরকে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না । যদি কোন ব্যক্তি কোয়ারান্টাইন না মানে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আমি জানি, মুরুব্বী এবং যুব সমাজের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনের জন্য গ্রামে গ্রামে ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তাই আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর আমি প্রাইমারী ও হাই স্কুলগুলো প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন কাজে ব্যবহার করার জন্য ইউএনও সাহেবের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে দিয়েছি, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোন ব্যক্তি যাহাতে কোয়ারান্টাইন ভঙ্গ করতে না পারে তার প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। এ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সকলের দায়িত্ব।
তাই আসুন সকলেই মিলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করি#
ঘরে থাকি#
স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি#
সকলকে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখি#