শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে সাইবার হামলা, ২৫ লক্ষ ডলার লোপাট

শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে সাইবার হামলা, ২৫ লক্ষ ডলার লোপাট

শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে সাইবার হামলা, ২৫ লক্ষ ডলার লোপাট
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালিয়ে হ্যাকাররা প্রায় ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বিপাক্ষিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই লেনদেনটি করা হচ্ছিল। তবে নির্ধারিত প্রাপকের কাছে টাকা না পৌঁছানোয় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কলম্বোর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষণা সুরিয়াপেরুমা গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, শ্রীলঙ্কা সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলেও সাইবার অপরাধীরা মাঝপথে হস্তক্ষেপ করে অর্থগুলো অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হ্যাকাররা সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ইমেল আদান-প্রদান ব্যবস্থায় কারচুপি করেছিল। তারা কৌশলে ইমেলের মাধ্যমে দেওয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশন বা অর্থ প্রদানের নির্দেশনা বদলে দিয়ে অপরাধীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এর ফলে সরকারি নথিতে টাকা পরিশোধ দেখালেও বাস্তবে তা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তহবিলে জমা পড়েনি।

এই বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, এই কর্মকর্তাদের অবহেলা ছিল নাকি তারা সরাসরি হ্যাকারদের সাথে কোনো গোপন যোগসাজশে লিপ্ত ছিলেন। একইসাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পাওনা টাকা না পৌঁছানোর অভিযোগ পাওয়ার পরই মূলত এই বিশাল কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসে।

শ্রীলঙ্কার উপ-অর্থমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানিয়েছেন, হ্যাকাররা ভারতের একটি ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও একই ধরণের জালিয়াতির চেষ্টা করেছিল। তবে সেই দফায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল ধরা পড়ায় দ্বিতীয় দফার চুরি ঠেকানো সম্ভব হয়। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইন্টারনাল কন্ট্রোল মেকানিজম কীভাবে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত অডিট শুরু হয়েছে। চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।

এক সময়কার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা শ্রীলঙ্কার জন্য এই সাইবার হামলা এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২২ সালের চরম মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে দেশটি যখন বিপর্যস্ত ছিল, তখন থেকেই তারা আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা করছে। এমন সংবেদনশীল সময়ে সার্বভৌম ঋণ পরিশোধের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বিশাল ফাটল দেশটির অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed