মণিপুরে সশস্ত্র হামলায় কুকি গ্রামে নিহত ২, নারী-শিশুসহ বহু আহত
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুর রাজ্যের উখরুল জেলায় কুকি অধ্যুষিত দুটি গ্রামে ভোররাতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত দুই গ্রাম স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন এবং নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
কুকি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস ট্রাস্ট (কেওএইচইউআর) জানায়, ভোর প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে মুল্লাম ও শংফাল গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন সশস্ত্র হামলাকারীরা গ্রাম লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং কয়েকটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অন্তত দুটি ঘর পুড়ে যায় এবং একাধিক গ্রামবাসী আহত হন। আহতদের বর্তমান অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংস্থাটির দাবি, হামলার সময় দায়িত্ব পালনরত দুই কুকি গ্রাম স্বেচ্ছাসেবক এলাকাটি রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে “নৃশংসভাবে নিহত” হন। তবে গ্রামবাসীরা লাইসেন্সধারী শিকারের অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং একজন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
কেওএইচইউআর এ ঘটনাকে “পরিকল্পিত হামলা” এবং “ধারাবাহিক আগ্রাসনের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি নির্দেশ করে।
সংস্থাটি দ্রুত এ ঘটনায় মামলা (এফআইআর) গ্রহণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ প্রযোজ্য আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া কুকি-নাগা অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়।
সংস্থাটি আহতদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা এবং নিহত দুই স্বেচ্ছাসেবকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।
একইসঙ্গে মণিপুর রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং তাংখুল সিভিল সংগঠনগুলোর কাছে ঘটনার স্পষ্ট নিন্দা জানানো এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত পরিচয়ের আড়ালে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভোগ করছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেওএইচইউআর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, “এ ধরনের ধারাবাহিক নৃশংসতার মুখে নীরব থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং আহতদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্প্রদায় রক্ষায় প্রাণ দেওয়া দুই স্বেচ্ছাসেবকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মণিপুরের বিভিন্ন এলাকায় চলমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।