কাচিনে অভিযান: ক্লিনিক থেকে ২১ জনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ জান্তার বিরুদ্ধে
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর অভিযানের মধ্যে হপাকান্ত টাউনশিপের একটি ক্লিনিক থেকে ২১ জনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লোন খিন গ্রামের ‘মাই হাসপাতাল’-এ অভিযান চালায় সামরিক বাহিনী। অভিযানে একজন চিকিৎসক, তিনজন সহকারী চিকিৎসক এবং আটজন নার্সকে আটক করা হয় বলে একজন স্থানীয় বাসিন্দা The Irrawaddy-কে জানিয়েছেন। এছাড়া আরও নয়জন কর্মচারী, একজন রোগী এবং তার পরিবারের দুই সদস্যকেও আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ওই সূত্র জানান, “কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।” তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই দিনে একটি স্থানীয় অতিথিশালায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম উরু ডেইলি নিউজ।
এর আগে রোববার লোন খিন এলাকা কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)-এর কাছ থেকে পুনর্দখল করার পর থেকেই সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র ওয়ারাজুপ মিলিশিয়া লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
কেআইএ’র মুখপাত্র কর্নেল নাও বু বলেন, গত তিন দিন স্থলযুদ্ধ না হলেও হপাকান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মাঝেমধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রোববার থেকে পুরো হপাকান্ত টাউনশিপজুড়ে বেসামরিক লোকজনকে আটক করছে সামরিক বাহিনী।
গত ২ এপ্রিল কাচিনের এই জেড খনি সমৃদ্ধ এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন সামরিক বাহিনী কেআইএ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অগ্রসর হতে থাকে। রোববার লোন খিন গ্রামের রাখাইন অভিবাসী শ্রমিক কেন্দ্রের কাছে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। নাও বু নিশ্চিত করেছেন, টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে কেআইএ ও তাদের মিত্ররা কাচিন রাজ্যের ১৪টি শহর দখল করে নেয়, যার মধ্যে ভামো ও ওয়াইংমাও টাউনশিপে সামরিক বাহিনীর বেশিরভাগ অবস্থানও রয়েছে।
অন্যদিকে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী শাসক মিন অং হ্লাইং শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও কাচিনসহ বিভিন্ন প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রধান প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো এই শান্তি প্রস্তাবকে ‘ফাঁকা আশ্বাস’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রসঙ্গত, কাচিন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযান ও বেসামরিকদের ওপর দমন-পীড়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।