মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান জোরদার, দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা
![]()
নিউজ ডেস্ক
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিয়ানমার। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, একই দিনে মিয়ানমারে একটি অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগে দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ Department of Justice (ডিওজে) হুয়াং জিংশান ও জিয়াং ওয়েন জিয়ের বিরুদ্ধে ‘ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ এনেছে। তারা থাইল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন কারেন রাজ্যের মিন লেট পান গ্রামের মিলিশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত শিল্পমাত্রার ‘শুন্ডা পার্ক’ স্ক্যাম কম্পাউন্ড পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডিওজে জানায়, এই কম্পাউন্ড থেকে ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের ছদ্মবেশে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর U.S. State Department কারেন রাজ্যের কিয়াউক খেত এলাকায় অবস্থিত ‘তাই চ্যাং’ নামের আরেকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড সংশ্লিষ্ট অর্থ উদ্ধার বা জব্দে সহায়ক তথ্যের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।
গত বছর মিয়ানমারভিত্তিক একটি প্রতারণা চক্রের ব্যবহৃত ওয়েব ডোমেইন জব্দ করার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় স্ক্যাম সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ‘স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স’-এর সমন্বিত অভিযানের অংশ।
ডিওজে জানায়, ২০২৫ সালেই এসব প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭.২ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়ায় মানব পাচারের শিকারদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়োগে ব্যবহৃত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল জব্দ, ৫০৩টি ভুয়া বিনিয়োগ ওয়েবসাইট বন্ধ এবং প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চুরি যাওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি পুনরুদ্ধার।

ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি Jeanine Pirro বলেন, “মিয়ানমার এখনো আমাদের স্ট্রাইক ফোর্সের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি।” The Irrawaddy-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “তাই চ্যাং স্ক্যাম কম্পাউন্ডের বিরুদ্ধে আমরা একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছি, যার মধ্যে ভুয়া বিনিয়োগ ওয়েবসাইট জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা রয়েছে।”
এই স্ক্যাম নেটওয়ার্কগুলো মূলত শিল্পমাত্রার কম্পাউন্ড নিয়ে গঠিত, যা জান্তা-সমর্থিত ডেমোক্রেটিক কারেন বেনেভোলেন্ট আর্মি (ডিকেবিএ)-এর সুরক্ষায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
অভিযুক্ত দুই চীনা নাগরিক বর্তমানে থাইল্যান্ডে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগে আটক রয়েছেন বলে জানান জেনিন পিরো। তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিচার কার্যক্রম চালানোর প্রত্যাশা করছি।”
ডিওজে আরও জানায়, গত নভেম্বরে শুন্ডা কম্পাউন্ডটি জান্তা-বিরোধী কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) দখল করার পর ওই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের Federal Bureau of Investigation-এর সদস্যরা থাইল্যান্ডে গিয়ে ওই কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার করা হাজারো মোবাইল ডিভাইস এবং ১,৩০০-এর বেশি ডেস্কটপ কম্পিউটার পরীক্ষা করেন।
পরে ওই দুই ব্যক্তি কম্বোডিয়ার আরেকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ডে পালিয়ে গিয়ে তাদের ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে তারা থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমারে ফেরার চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার হয় বলে জানায় ডিওজে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম্বোডিয়া ও লাওসের পাশাপাশি মিয়ানমারও কার্যত একটি ‘স্ক্যাম রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে চীনা অপরাধচক্রগুলো সীমান্তবর্তী আইনশৃঙ্খলাহীন এলাকাগুলোতে শিল্পমাত্রার সাইবার প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলে অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।