বেসামরিকদের ওপর হামলার মধ্যেই মিয়ানমার সেনাদের জন্য ভারতের শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু

বেসামরিকদের ওপর হামলার মধ্যেই মিয়ানমার সেনাদের জন্য ভারতের শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু

বেসামরিকদের ওপর হামলার মধ্যেই মিয়ানমার সেনাদের জন্য ভারতের শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অফিসারদের নবম প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে ভারত। তবে এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশটির সামরিক বাহিনী প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিকদের ওপর হামলা জোরদার করে যাচ্ছে।

ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল কিয়াও সোয়া লিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, যা আগামী ২২ মে পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় ঠাকুর, প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে, ভারতীয় প্রশিক্ষক এবং মিয়ানমারের প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ৩০ জন কর্মকর্তা এই কোর্সে অংশ নিচ্ছেন। তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা নীতিমালা, বেসামরিক ও শিশু সুরক্ষা, সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়, টহল কার্যক্রম, কনভয় নিরাপত্তা, কোম্পানি বেস নির্মাণ এবং ‘ব্লু হেলমেট’ অনুশীলন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি মিয়ানমারে ভারতের আয়োজিত দ্বিতীয় শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ কোর্স।

এই প্রশিক্ষণ শুরুর কয়েকদিন আগেই মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উ নেপিডোতে ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠির সঙ্গে বৈঠক করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম কোনো বিদেশি সামরিক নেতার সঙ্গে বৈঠক। সফরের অংশ হিসেবে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি ইয়াঙ্গুনের থিলাওয়া বন্দরে অবস্থানরত একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কো কো উ-এর সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেন।

এর ফলে এক সপ্তাহের মধ্যেই মিয়ানমারের শীর্ষ তিন সামরিক নেতা ভারতের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

ইয়ে উইন উ ও ত্রিপাঠির বৈঠকে যৌথ সামরিক মহড়া এবং সীমান্তবর্তী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভারত সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের অভিযান চালিয়ে চিন রাজ্যের ফালাম এবং সাগাইং অঞ্চলের মাওলু পুনর্দখল করেছে।

এদিকে শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার সময়ই মিয়ানমার সেনাবাহিনী চিন রাজ্যের মিন্দাতসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালাচ্ছিল। পাশাপাশি মান্দালয় অঞ্চলের মিয়িংইয়ান টাউনশিপে প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রিত গ্রামগুলোতে আগুন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সমালোচকরা বলছেন, যেখানে প্রশিক্ষণে বেসামরিক সুরক্ষার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাস্তবে সেনাবাহিনী নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—যা এক বড় ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আসিয়ান-এর পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং আঞ্চলিক সম্মেলনগুলো থেকে বহিষ্কৃত। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও সমর্থন জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই সম্পৃক্ততার পেছনে দুটি মূল লক্ষ্য রয়েছে—চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে এগিয়ে নেওয়া। চীন যেখানে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে, সেখানে ভারত রাখাইন হয়ে কালাদান পরিবহন প্রকল্প এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়কের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের কারণে এসব প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একমাত্র দেশ হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে বর্তমানে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ছাড়া সীমান্তবর্তী অনেক এলাকা শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে বা সংঘর্ষপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *