এমপির উদ্বোধনের একদিন পরেই গুইমারায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচীর ভেকু পুড়িয়ে দিল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা
![]()
নিউজ ডেস্ক
দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট নিরসনে তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাত্র একদিন পরেই চাঁদার টাকা না পেয়ে খনন কাজে ব্যবহৃত ভেকু (স্কেভেটর) মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা উপজেলার বড়পিলাক পথাছড়ায় খালের পাশে রাখা ভেকুটি পুড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে শ্রমিক ও স্থানীয়রা গুইমারার হাফছড়ি ইউনিয়নের পতাছড়া বিহার এলাকায় কাজে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে গতরাতে কোন এক সময় সন্ত্রাসীরা স্কেভেটরে আগুন লাগিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৯০ লাখ টাকায় পিলাক খাল খনন কাজটি বাস্তবায়ন করছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। কাজ শুরুর পর থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল ইউপিডিএফ। চাঁদা না পেয়ে একাধিকবার কাজ বন্ধ করতে হুমকি দেয়া হয়।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা কাজ শুরুর পর থেকে চাঁদা দাবি করছিল বলে শুনেছি। ধারণা করা হচ্ছে চাঁদা না পেয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না বলেন, দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে স্কেভেটরের কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মাত্র একদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার (২০ মে) বিকেলে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কাজের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গুইমারা উপজেলার ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়।
এর আগে, গত ১৮ মে রাতে ইউপিডিএফে সন্ত্রাসী দুর্জয় চাকমা, যিনি ওই এলাকার পোস্ট কমান্ডার হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন; হাফছড়ি ইউনিয়নের পথছড়ায় পিলাক খাল খনন কাজে ব্যবহৃত ভেকু চালক শহিদুল ইসলামকে মুঠোফোনে চাঁদা না দেয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে জানা যায়। পরে সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় খাল খননের কাজ। কাজ শুরু করতে হলে চাঁদা দিয়ে সমঝোতা করার জন্য শহিদুলকে পরামর্শ দেয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী দুর্জয় চাকমা।
এছাড়া, একই প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২শ টাকা হারে চাঁদা নেয়ার অভিযোগও উঠেছিলো ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।