জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছর বাজেট উত্থাপন
![]()
নিউজ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্য শুরু করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। স্বাধীনতার পর বাজেট পেশকারী ব্যক্তিদের তালিকায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হচ্ছেন ১৫তম।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে আসন্ন অর্থবছরের বাজেট আগের বছরের চেয়ে ১৮.৭৩ শতাংশ বা ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বাজেট ঘাটতি এবং পূরণ
আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ৩.৬ শতাংশের সমান।
বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
আয়-ব্যয়
প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর বহির্ভূত কর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এডিপি’র আকার
আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি ১৬ কোটি ৭৫ হাজার টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি’র তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। বাকি এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে।
এডিপিতে খাতওয়ারী বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পরিবহন যোগাযোগ খাতকে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫.৮ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে শিক্ষাখাত, বরাদ্দ ১৫.৭ শতাংশ। এরপর যথাক্রমে স্বাস্থ্য খাতে ১১.২ শতাংশ, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে ১০.৩ শতাংশ, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি ৬.৪ শতাংশ, ৬.৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৪.৪ শতাংশ, কৃষি ৩.৪ শতাংশ, পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ ৩.২ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা ১.৪, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ১.২, সাধারণ সরকারি সেবা ১.০, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা ০.৮; ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন ০.৮, সামাজিক সুরক্ষা ০.৭, প্রতিরক্ষা ০.৪।
এডিপিতে উন্নয়ন সহায়তা রাখা হয়েছে ১.৩ শতাংশ, বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা ৫.৪ এবং বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা রাখা হয়েছে ১১.৪ শতাংশ। নন- এডিপি খাতে স্কিম রাখা হয়েছে ১.৭ শতাংশ, এডিপি বর্হিভূত বিশেষ প্রকল্প ২.৬ এবং কাবিখা কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে ০.৮ শতাংশ।
সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়
মোট বাজেটের ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মন্ত্রণালয় অনুযায়ী বরাদ্দ যথাক্রমে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ হাজার ৯৯ কোটি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৮ হাজার ১১৫ কোটি, বিদ্যুত বিভাগ ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি, স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১৩ হাজার কোটি ৪৬৬ কোটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।
সংসদে উপস্থাপনের আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বাজেট প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাজেট প্রস্তাবনায় সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। আগামী ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন অর্থবছর।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই মুজিবনগর সরকার তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট অনুমোদন করে। তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী। সেই বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। তাজউদ্দীনের বাজেট ছিল পুনর্গঠন, পুনর্বাসন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের রূপরেখা। তখন দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্যসংকট মোকাবিলা, উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।