পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে বিএনপির কোন ভূমিকা ছিল না- সন্তু লারমা
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেন, ১৯৮০ দশকের শুরুতে বিএনপি সরকারের যে যাত্রাকাল আমরা দেখেছি সে সময়ে এই পার্বত্য অঞ্চলে বুকে প্রায় পাঁচ লক্ষ বহিরাগতকে আনা হয়েছিল। যাদেরকে আমরা সেটেলার বলি এবং সরকারও তাদেরকে সেটেলার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিএনপি সরকারই সে সময়ে তাদেরকে সরকারি উদ্যাগে এখানে এনে জুম্ম জনগনের ভিটেমাটির উপর বসিয়ে দিয়েছে। চুক্তির স্বাক্ষরের পিছনেও এই বিএনপি সরকারের কোন ভূমিকা আমরা দেখি নাই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের হল রুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সন্তু লারমা আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে এই পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের যে ডায়লগ হয়েছিল সেটার ফলপ্রসু কোন কিছুতে বিএনপি সরকার এগিয়ে আসে নাই। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) জুম্ম জনগণের পক্ষে যে পাঁচ দফা দাবি উথাপন করেছিল, সে পাঁচ দফা দাবি এই বিএনপি সরকার গ্রহণ করতে পারে নি। যার কারণে পার্বত্য চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে বাস্তবতা সেটা এগিয়ে যেতে পারে নাই।
সন্তু লারমা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আমরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এক নাগাড়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ছিল। দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হয় কিন্তু এই চুক্তি বাস্তবায়নের আমরা কোন সম্ভবনা দেখি নাই। আমরা প্রতারিত হয়েছি। তখনকার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যে সরকার সে সরকার আমাদের জুম্ম জনগণকে প্রতারিত করেছে।
সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) উপ পরিচালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, সিএইচটি নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্ক সভাপতি জয় ত্রিপুরাসহ তিন পার্বত্য জেলার হেডম্যান ও কার্বারী নেতৃবৃন্দরা ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।