হাইতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং জাতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক অপহৃত

হাইতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং জাতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক অপহৃত

হাইতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং জাতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক অপহৃত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে এবার অপহরণের শিকার হয়েছেন দেশটির অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিপরিষদ পরিচালক এবং জাতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক (ইন্সপেক্টর জেনারেল) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেমস বোয়ার্ডকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে বলে শনিবার (১৩ জুন) নিশ্চিত করেছে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতিতে অপহৃত হওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বোয়ার্ডই সবচেয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তি।

ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র শনিবার (১৩ জুন) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বুরদোঁ এলাকায় তাকে অপহরণ করা হয়। এলাকাটি রাজধানীর তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ‘ভিভ আনসাম’ নামে পরিচিত শক্তিশালী গ্যাং জোটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের মে মাসে এই জোটকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও পরিচিত জেমস বোয়ার্ড হাইতির সশস্ত্র বাহিনী পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম মূল্যায়ন ও সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করেছেন।

তাকে কারা অপহরণ করেছে কিংবা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ–এর বিশ্লেষক দিয়েগো দা রিন বলেন, ‌এ ধরনের একজন কর্মকর্তার নিরাপত্তাব্যবস্থা সাধারণত অত্যন্ত শক্তিশালী থাকে।

তার মতে, বোয়ার্ডকে অপহরণের ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে এটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা বলয়ের কাছের কারও সহযোগিতা এতে থাকতে পারে।

দিয়েগো দা রিন আরও বলেন, আগে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত পোর্ট-অ-প্রিন্সের এলাকাগুলোতেও এখন অপহরণের ঘটনা বাড়ছে। অনেক সময় গ্যাং সদস্যরা পুলিশের পোশাক পরে ভুয়া অভিযান পরিচালনার ভান করে গাড়িচালকদের থামায়।

তিনি জানান, গ্যাংগুলো এখন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মাধ্যমে তারা আরও বেশি মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দিষ্ট গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অভিযান চালানো থেকে নিরুৎসাহিত করতে চাইতে পারে, যেখানে অপহৃত ব্যক্তিদের আটকে রাখা হয়।

সম্প্রতি পুলিশ ‘ভিলেজ দ্য দ্যু’ এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এলাকাটি ‘৫ সেগন্ড’ গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে, যার নেতা জনসন আন্দ্রে। ‘ইজো’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি হাইতির সবচেয়ে ক্ষমতাধর গ্যাং নেতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত।

দা রিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের শিকার কিছু মানুষকে ভিলেজ দ্য দ্যু এলাকায় নিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতিতে আলোচিত অপহরণের শিকারদের মধ্যে সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক মিশনারিরাও ছিলেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৬৭ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই পুরুষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ১ হাজার ২৬৮টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যা আগের বছরের ২ হাজার ৫৮টি ঘটনার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। তবুও দেশটিতে অপহরণ ও গ্যাং সহিংসতা এখনো বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *