জান্তার সমালোচনা করে বই প্রকাশ, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও তার ছেলের ৩ বছরের কারাদণ্ড
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ন্যাশনাল লিটারারি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ৭১ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউ টিন ন্যুন্ট এবং তার প্রকাশক ছেলে কো নে তুনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাহিত্য মহল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বিশেষ আদালত ইনসেইন কারাগারের ভেতরে অনুষ্ঠিত বিচার কার্যক্রমে মিয়ানমার দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় তাদের এই সাজা ঘোষণা করে। এই ধারা অনুযায়ী সামরিক অবাধ্যতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা লেখা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
একজন সহ-লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ইরাবতিকে জানান, “রায় দেওয়া হয়েছে—এটা সত্য, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।”
সাহিত্যিক মহল জানায়, গত ২৩ এপ্রিল ইয়াঙ্গুনের থানলিন টাউনশিপে নিজ বাসা থেকে ইউ টিন ন্যুন্ট ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত মূলত ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লেখা ও প্রকাশিত তিনটি ব্যঙ্গাত্মক বইকে কেন্দ্র করে, যেগুলো সামরিক বাহিনীকে নিয়ে সমালোচনামূলক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
বইগুলোর শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—“I Lied to Generals”, “Dog Keeper Nga Tar” এবং “U Than Swe’s Astrological Rituals”।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই বইগুলো টিকটকে প্রচারের অভিযোগে এক নারীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ, যিনি অনলাইনে বিক্রির জন্য লাইসেন্স না থাকার অভিযোগেও অভিযুক্ত হন।
ইউ টিন ন্যুন্ট ২০১৭ সালে তার “A School Teacher’s Diary” বইয়ের জন্য জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি রাজনৈতিক প্রবন্ধ, নন-ফিকশন এবং কথাসাহিত্যের একজন সুপরিচিত লেখক। তার আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস হলো “Tears Falling on the Yoma”।
তার বেশিরভাগ বই তার ছেলে কো নে তুনের মালিকানাধীন প্রকাশনা সংস্থা মাউক্কা পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত হতো।
এদিকে একই দিনে দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মেজর জেনারেল মিন থু নিম্নকক্ষে জানান, সামাজিক মাধ্যমে “রাজনৈতিক আক্রমণ, ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট” প্রচারের অভিযোগে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কমিটি ২০১৪ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং দণ্ডবিধির ৫০ ও ৫২ ধারায় মামলা করার ক্ষমতা রাখে, পাশাপাশি ৫০৫(এ) ধারায়ও ব্যবস্থা নিতে পারে।
উপ-মন্ত্রী জানান, ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ২১,৩৬৯ জন অনলাইন ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০,০০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।