মিয়ানমারে সেনা নিয়োগের নামে অপহরণ বাণিজ্য, পুলিশ কর্মকর্তাকে শ্রমিক হিসেবে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়

মিয়ানমারে সেনা নিয়োগের নামে অপহরণ বাণিজ্য, পুলিশ কর্মকর্তাকে শ্রমিক হিসেবে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়

মিয়ানমারে সেনা নিয়োগের নামে অপহরণ বাণিজ্য, পুলিশ কর্মকর্তাকে শ্রমিক হিসেবে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের মন রাজ্যে সামরিক নিয়োগ ব্যবস্থার আড়ালে অপহরণ ও মানবপাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পার্লামেন্ট নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করে পরে মাছ ধরার শ্রমিক হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা জাও উইন তুনকে গত শুক্রবার দুপুরে মাওলামাইন শহরের একটি প্যাগোডায় প্রার্থনারত অবস্থায় তিনজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে একজন নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দেন, পিটিয়ে ও জোরপূর্বক অপহরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর তাকে থানবিউজায়াত টাউনশিপের কিয়াইক্কামে নামক পর্যটন শহরে নিয়ে গিয়ে একটি মৎস্য শিল্পে শ্রম সরবরাহকারী ব্রোকারের কাছে বিক্রি করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে জোর করে ১.২ মিলিয়ন কিয়াত অগ্রিম বেতন দাবি করাতে বাধ্য করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ব্রোকার পরে তাকে কিয়াইক্কামে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে সহায়তা করেন।

ঘটনার পর কিয়াইক্কামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—উ তিন থান (৫১), তিন মিন হটু (৪৬) এবং ফ্যো কো কো (৩৮)। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় উ তিন থান থেকে একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়, যেখানে তাকে মাওলামাইন সামরিক নিয়োগ ইউনিট অফিসের নিয়োগ সহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ঘটনাটির সঙ্গে সামরিক নিয়োগ কাঠামোর যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করে শ্রমিক হিসেবে বিক্রি করার খবর এখন শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কর্তৃপক্ষ সামরিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও সবাই জানে এটি সেই একই চক্র, যারা মানুষ অপহরণ করে সেনাবাহিনীর নিয়োগ ও শ্রম বাজারে বিক্রি করছে।”

এদিকে মিয়ানমারের বিভিন্ন বড় শহর—ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ—সামরিক নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক অপহরণের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং যানবাহন থেকে সুস্থ পুরুষদের ধরে নিয়ে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক নিয়োগ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষদের দুই বছরের সামরিক সেবার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। এই আইনকে কেন্দ্র করে হাজারো তরুণ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বা সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসিক নিয়োগ কোটা পূরণ করতে প্রশাসন ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলো আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে নিয়মিত অপহরণ চালাচ্ছে। কোথাও কোথাও ধনী ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের বদলি লোকও নিয়োগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ব্যবস্থা এখন একটি লাভজনক মানবপাচার নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যেখানে দুর্বল ও সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *