সিরাজগঞ্জে জৈব সারের বদলে আবর্জনা বিতরণকাণ্ড, অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি

সিরাজগঞ্জে জৈব সারের বদলে আবর্জনা বিতরণকাণ্ড, অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি

সিরাজগঞ্জে জৈব সারের বদলে আবর্জনা বিতরণকাণ্ড, অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন, পাহাড়কে যদি ‘পানিশমেন্ট জোন’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে কেউই সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে চাইবেন না। মন্ত্রণালয়গুলোকে এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই আহ্বানের রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই আবারও ঘটল একই ঘটনা—সিরাজগঞ্জে জৈব সারের বদলে আবর্জনা বিতরণের অভিযোগে বিতর্কিত এক কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো খাগড়াছড়িতেই। ফলে এই বদলিকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে— পাহাড় কি সত্যি ‘পানিশমেন্ট জোন’ নাকি ‘ডাম্পিং স্টেশন’

কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে বদলি করা হয়েছে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায়। রোববার (২৮ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম সই করা এক অফিস আদেশে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার (২৯ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে রতন চন্দ্র বর্মনকে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।

যে ঘটনায় বদলি

গত ২৪ জুন কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি চারার সঙ্গে দেওয়া হয় ৩০ কেজি করে জৈব সার। তবে কয়েকজন কৃষক বস্তা খুলে সারের মধ্যে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত উপাদান দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের পর অনেক কৃষক সার না নিয়ে শুধু গাছের চারা নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, আর তার মধ্যেই এলো এই বদলির সিদ্ধান্ত।

সংসদে যা বলেছিলেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া

পার্বত্য চট্টগ্রামকে শাস্তিমূলক বদলির গন্তব্য বানানোর এই প্রবণতা নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুল-কলেজগুলোর অবস্থা “খুব করুণ”। যেখানে যত শিক্ষক থাকার কথা, তার অর্ধেকেরও কম শিক্ষক বাস্তবে কর্মরত। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারীরা পাহাড়ে গেলে দীর্ঘদিন থাকতে চান না, সুযোগ পেলেই ফিরে আসার চেষ্টা করেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ যদি পাহাড়ের পরিবেশের প্রেমে পড়ে সেখানে থাকতে চান, তাকেও হঠাৎ বদলি করে নিয়ে আসা হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের আস্থাভাজন ও দীর্ঘদিন পাহাড়ে কর্মরত এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে সম্প্রতি বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে স্থানীয়রা মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।

বিতর্কিতদের পাহাড়ে বদলির ঘটনা নতুন নয়

এই প্রবণতা নিয়ে আপত্তি শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বছর জুলাইয়ে মানিকগঞ্জে এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বান্দরবানে বদলি করা হলে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি। সংগঠনটি তখন প্রশ্ন তোলে, “পার্বত্য চট্টগ্রাম কি তবে অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র?”

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ৬১ জেলায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত হলে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা পাহাড় ও সমতলের বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সংগঠনটি সরকারের কাছে দাবি জানায়, অভিযুক্ত বা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি না করে বরং সৎ, যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়নে প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সংগঠনটি হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল, ভবিষ্যতে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদায়ন অব্যাহত থাকলে পার্বত্যবাসী কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সংসদে এমপির ক্ষোভ, সংগঠনের প্রতিবাদ—এর কোনোটাই থামাতে পারেনি এই প্রবণতা। সিরাজগঞ্জের এই সাম্প্রতিক বদলির ঘটনাও সেই একই প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এলো—বিতর্কিত বা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের গন্তব্য কেন বারবার হয়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম?

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।